কয়েলেও কাজ হচ্ছে না, মশারির ভেতরে পড়তে হচ্ছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শিক্ষার্থীদের অনেকেই মশারির ভেতরে বসেই পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মশারির ভেতরে বসেই পড়তে হচ্ছে। তার মতো প্রায় সব আবাসিক শিক্ষার্থীই একই সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। অনেকেই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। তাদের মতে, হলগুলোর আশপাশে অপরিষ্কার ড্রেন, জমে থাকা ময়লা ও পানি থেকেই মশার বিস্তার ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন হলের ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা জমে পানি আটকে আছে। প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা আবর্জনায় ভরা এসব ড্রেন এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় জমে থাকা পানি কালচে রূপ নিয়েছে, যা ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হজরত বিবি খাদিজা হলের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান হ্যাপী বলেন, অতিরিক্ত মশার কারণে জানালা খোলা রাখা যায় না। গরমের মধ্যে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কয়েক দিন পরপর স্প্রে করলেও তেমন লাভ হচ্ছে না। চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে, ময়লার ভাগাড় সরাতে হবে।
আব্দুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত সিয়াম বলেন, গরম শুরুর আগেই মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। জানালার পাশে ড্রেন থাকায় তা খোলা যায় না। কয়েল জ্বালানো আর মশারি টানানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ফগার মেশিন সাময়িক সমাধান দেয়। ড্রেন পরিষ্কার, পানি জমে থাকা স্থান অপসারণ এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট ফরিদ দেওয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ডাস্টবিনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট তসলিম মাহমুদ বলেন, প্রতি সপ্তাহে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ড্রেনগুলো আরও ভালোভাবে পরিষ্কার করা হবে। শিক্ষার্থীরা একটু সচেতন হলে কাজটি আরও সহজ হবে।