প্রশাসনিক দপ্তরে শিক্ষকদের লাগানো তালা খুললেন ববি উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দেওয়া তালা অপসারণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। শিক্ষকদের দ্বিতীয় দফায় চতুর্থ দিনের শাটডাউনে যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ৪৬ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিল আলমের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির রেজিস্ট্রার ও অর্থদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের তালা অপসারণ করেন।
শিক্ষকদের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার বিষয়ে আলোচনার জন্য বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি। এরপর উপাচার্য দপ্তরগুলোর তালা অপসারণের নির্দেশনা দেন।
তালা অপসারণের পর মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের নির্দেশে শিক্ষদের দেওয়া তালা আমরা অপসারণ করলাম। এখন দপ্তরগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালা দেওয়ার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার উপাচার্য তালা অপসারণ করলেন। বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে উপাচার্যের এক মিটিংয়ে তালা অপসারণের দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকদের এই বারবার দাবি আদায়ে শাটডাউন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ৪৬টি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট চরম আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনার্স শেষ করতে না পারায় সরকারি চাকরি পরীক্ষাগুলোতে আবেদন করতে পারছেন না।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ বিভাগের অনার্স শেষ ফলাফলও পেয়েছে। আমাদের পরীক্ষাগুলো আটকে আছে শিক্ষকদের আন্দোলনে আমরা কী করব? দিনশেষে আমরা শিক্ষার্থীরাই ভুক্তভোগী।’
শিক্ষকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও ডিনদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলেন কিন্তু শিক্ষকরা বসতে রাজি হননি।
তালা অপসারণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, ‘আমাদের দপ্তরের তালা খুলে দিয়েছে উপাচার্যের নির্দেশে আমরা এখন দপ্তরের স্বাভাবিকভাবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব।’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে বলেন, ‘২৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১২ জনের পদ রয়েছে বাকিদের পদ সৃষ্টি হয়নি। সেটা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থাকবে, ইউজিসি থাকবে সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কিন্তু ১২ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে তা তো হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। আমরা আহ্বান করব শিক্ষকরা যেন ক্লাসে ফিরে আসেন আর বাকি বিষয়গুলো উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।’
দপ্তরগুলোর তালা অপসারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘আমি শিক্ষকদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলাম গতকাল (বুধবার) বিকেল ৩টায়, তারা সাড়া দেননি। আজ বিভাগীয় কমিশনারসহ বরিশালের প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসেছিলেন শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিন্তু তারা আলোচনায় আসেননি। আমি এরপর প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের তালা অপসারণ করেছি।’
