সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) এক ছাত্রীকে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস) কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে হেনস্তা ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দিনভর ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গত বছরের ৭ এপ্রিল সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার জেরে আসামিপক্ষের আত্মীয় গকসু ভিপি মৃদুল ও তার অনুসারীরা তাকে ক্রমাগত হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে রোববার সকালে তিনি গবিসাস কার্যালয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন সহপাঠীসহ গবিসাস কার্যালয়ে বক্তব্য দিতে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই গকসু ভিপির স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। উত্তেজিত একদল শিক্ষার্থী সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ের কাঁচের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন এবং ওই ছাত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা ওই শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করলে দফায় দফায় সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার হুমকি দেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের কোনও বক্তব্য থাকলে সেটি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টারা গবিসাস কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে আশুলিয়া থানা পুলিশও ক্যাম্পাসে পৌঁছায়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ, গকসু প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক চলে। তবে সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) সভাপতি মোজাহিদুল নিরব ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর মুক্ত সাংবাদিকতা ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রোধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান সাংবাদিক সমিতি কার্যালয় পরিদর্শন করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে অনুষদ প্রতিনিধি মেহেদী, সম্রাটসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গকসু ভিপি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তবে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কনক চন্দ্র রায় বলেন, ইভটিজিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কাজ করছে। এই ঘটনায়ও তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছে।