সরকারি মাধ্যমিকে ভর্তিতে কোটা থাকছে ১৩ শতাংশ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে কোটাধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। এমন প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া ভর্তি নীতিমালায়। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করে ভর্তি নীতিমালা জারি করবে সরকার। এর ভিত্তিতেই ২০২৭ সালে সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি নেওয়া হবে।
নীতিমালা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। খসড়া যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বৈঠক করে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করবে মন্ত্রণালয়।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। তবে কোটা পূরণ না হলে মেধা তালিকা থেকে ভর্তি করানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলেই তারা এ সুযোগ পাবেন। মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্যও একই শর্তে আলাদাভাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ আসন রাখা হয়েছে।
যমজ ভাইবোনের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর যমজ ভাইবোন আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে এ সুবিধা মিলবে। যে যমজ ভাইবোনরা নতুন আবেদন করবে, তারাও এর আওতায় পড়বে।
সহোদরদের জন্য থাকছে ৩ শতাংশ আসন। আবেদনকারীর সহোদর আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে অথবা নতুন আবেদন করলেও এটি প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারি মাধ্যমিকে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ রাখা হয়েছে। মোট আসনের ১০ শতাংশ থাকবে স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
বেসরকারিতে এই ১৩ শতাংশের বাইরে আরও এক শতাংশ কোটা থাকবে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের জন্য এই কোটা রাখবে প্রতিষ্ঠানগুলো। নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে তারা।
ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলসংলগ্ন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ ও গণিতে ৪০; মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য নীতিমালা খসড়া আকারে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু কোটা রাখা হয়। গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। তবুও এই কোটা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে নীতিমালায় এটি রাখা হয়।
