৫ বার ফেল করানোর অভিযোগ, মেডিকেল শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, অর্পিতা নওশিন শুরু থেকেই এনাটমি বিষয়ে জটিলতায় পড়েন। প্রথম বর্ষে থাকাকালে বিভাগের তৎকালীন প্রধানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তিনি এনাটমি বিষয়ের ‘চিহ্নিত’ শিক্ষার্থী হয়ে পড়েন।
নওশিন পাঁচবার এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি। ফলে সহপাঠীরা যখন শেষ বর্ষে, তখনও তাকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে বলে জানান সহপাঠীরা।
কলেজের একাধিক সহপাঠী জানান, নওশিনকে বিভিন্ন সময় ফেল করানোর ইঙ্গিত দেওয়া হতো। যদিও তার ব্যাচমেটরা নিয়মিতভাবে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন, নওশিন পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও এনাটমি বিষয়ে পাস করতে পারেননি।
সামিয়া নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অর্পিতা নওশিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তার জন্য কোনো কার্যকর কাউন্সেলিং বা সহায়তা ব্যবস্থা ছিল না। কিছু শিক্ষকের কঠোর ও একপাক্ষিক আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।