সংঘর্ষ-অবরোধ: হাবিপ্রবির ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, সব হল বন্ধ ঘোষণা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর নওশের ওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃথক দুইটি অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নূর হোসেন হলে হামলা চালায়। এ সময় হলের বিভিন্ন কক্ষ, আসবাবপত্র ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। হামলায় সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৩১ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিনেন্স অব স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন-১৪ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার বিকেল ৪টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করতে হবে। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবেন।
সংঘর্ষের জেরে একপর্যায়ে নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাবিপ্রবিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের নোটিশ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর নওশের ওয়ান জানান, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে দোষী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব হল বন্ধ থাকবে।
