জাল সনদ তৈরি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান এপিইউবির

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র ও অন্যান্য একাডেমিক নথি প্রস্তুত, বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সংগঠনের পরিচালক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি শুধু একটি আইনবিরোধী অপরাধই নয়; এটি দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতার জন্য চরম হুমকি।
এপিইউবি জানায়, সংঘবদ্ধ জাল সনদ চক্রের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব বৈধ ও অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর পড়ছে। এর ফলে কষ্টার্জিত মেধা দিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চাকরিদাতাদের সন্দেহের মুখে পড়ছেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদের যথার্থতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।
এ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোয়েন্দা সংস্থা, ডিবি ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জাল সনদ প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং বিক্রয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে জাল সনদ কেনাবেচায় ব্যবহৃত ভুয়া ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন, প্রতারণামূলক যাচাইকরণ পোর্টাল ও অনলাইন আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সাইবার অপরাধ দমন টিমকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় এপিইউবি।
সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায়, তদন্তে যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
