সুস্থ ক্যাম্পাস গড়তে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে: আমির খসরু

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একটি সুস্থ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অনেক দিন পর এসেছি। মনে হচ্ছে এক অসাধারণ প্রকৃতিতে ঢুকে গেছি। এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে উপাচার্যকে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, আমি ‘অসাম্প্রদায়িক’ শব্দটিতে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান—কারও বেশি নয়, কারও কম নয়। সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সাম্প্রদায়িক—এই শব্দগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। এগুলো ব্যবহার করার মানে হলো কোথাও সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়া। আমরা সবাই সমান নাগরিক, এটিই আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত।
তিনি যোগ করেন, বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র এগোতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা দিয়েছে, আবার একটি দাতব্য পরিবার সহায়তা করেছে—এই সমন্বয়টাই আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মন্দির স্থাপন কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠে বৈচিত্র্যের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা যে ‘ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি’ (বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য) এর কথা বলি, আজকের এই উদ্যোগ সেটিরই উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
দেশ গঠন নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছু সরকার একা করতে পারে না। সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে একটি ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে দেখতে চাই। এই দেশের সীমানার মধ্যে যারা বাস করেন, তারা সবাই প্রথমে বাংলাদেশি। এরপর তাদের ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি—যা আমাদের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে চবির উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে পাস হয়। পরবর্তীতে অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।