বহিষ্কৃত কর্মকর্তাকে ফের নিয়োগ, রাজউক কলেজে উত্তেজনা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হামলার ইন্ধনের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া সিনিয়র অ্যাডমিন অফিসার মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে আবার নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে উত্তরার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ বিকেল পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে দেখা যায়।
এ সময় রাজউক কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষভ মিছিল ও মানবন্ধন করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল অ্যাডমিন অফিসার আজাহারুলকে বহিষ্কারের দাবিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কলেজ মাঠে অবস্থান নেন। এ সময় তাদের একটি প্রতিনিধি দল ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর বা সমাধান দিতে পারেননি। পরে শিক্ষার্থীদের চাপে তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এক পর্যায়ে প্রিন্সিপালও বের হয়ে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন।
তবে শিক্ষার্থীরা কক্ষের ভেতরে আলোচনা করতে রাজি হননি। তারা সব শিক্ষার্থীর সামনে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় প্রিন্সিপালের কক্ষের সামনে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে প্রিন্সিপাল শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আওয়ামী লীগের দোসর ও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত আজহারকে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তিনি বসে বসে বেতন পেয়েছেন এবং সম্প্রতি তাকে আবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতেই তারা এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।
এ বিষয়ে রাজউক কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ বলেন, 'তাকে নিয়োগের শর্ত ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তার পরিবর্তে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তার (এডমিন অফিসার) জন্য বারবার ঝামেলা হবে, সেটা আমরা চাই না। আমরা দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।'
যদিও প্রিন্সিপালের কথা মানতে নাজার শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পরে শিক্ষার্থীদের কলেজ মাঠে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে দেখা যায়।
