logo

বিশ্ববিদ্যালয় চায় বসুন্ধরা গ্রুপ

বিশ্ববিদ্যালয় চায় বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরা গ্রুপের লোগো। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

উচ্চ শিক্ষা খাতে প্রবেশ করতে চায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। ‘বসুন্ধরা ইউনিভার্সিটি’ নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে গ্রুপটি।

দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৬০টি, বেসরকারি ১১৭টি। সব মিলিয়ে মোট বিশ্ববিদ্যালয় ১৭৭টি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য বলছে, আরও প্রায় দেড় ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠী। এর মধ্যে যমুনা গ্রুপও রয়েছে।

‘বসুন্ধরা ইউনিভার্সিটির’ জন্য আবেদন করেছেন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টি সায়েম সোবহান। ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকের ২ নম্বর প্লট। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নাম দেখানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় সায়েম সোবহান বলেন, একটি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা করতে আগ্রহী বসুন্ধরা গ্রুপ। এটি আদর্শ মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত বসুন্ধরা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিদের মধ্যে রয়েছেন আফরোজা বেগম, সাদাত সোবাহান, সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান, সাবরিনা সোবহান, আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান, আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান ও আহমেদ ইসমাইল সোবহান।

এর আগে ‘যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে যমুনা গ্রুপ। প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম। বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ইসলাম, সুমাইয়া ইসলাম, মনিকা নাজনীন ইসলাম, সারিয়াত তাসরিন, গোলাম মাওলা, মো. আব্দুল খালেক প্রমুখ। উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. নেছার ইউ আহমেদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, সাধারণ শিক্ষা, বাণিজ্য ও চারুকলাসহ সাংস্কৃতিক বিকাশের সব ধরনের শিক্ষা প্রদান হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য। কার্যক্রম এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর হায়ার এডুকেশন’ হিসেবে একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

বসুন্ধরা ও যমুনা গ্রুপ ছাড়াও অনেক আবেদন জমা পড়েছে। রাজশাহীর পবায় ‘আশ্রয় বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের আবেদন করেছেন আশ্রয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. আহসান আলী। একই এলাকায় ‘ইমপেরিয়াল ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদন চেয়েছেন উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ‘ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট’ (ইউআইটি)-এর জন্য আবেদন করেছেন ইউআইটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ। এসব ছাড়াও নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ভেরিটাস ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্সসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আবেদন জমা পড়েছে মন্ত্রণালয়ে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব আবেদন যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠিয়েছে। ইউজিসি ইতিমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা ইউজিসিতে এসেছে। আমরা প্রস্তাবগুলো যাচাই করে সরেজমিন পরিদর্শন করছি। পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’

প্রতি বছরই বিভিন্ন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন জমা পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আবেদনের হার বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজধানীর উত্তর দিয়াবাড়িতে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর অনুমোদন পায় ঠাকুরগাঁওয়ের ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এগুলো যদি যথাযথভাবে মান রক্ষা করে চলে তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি হয় ব্যবসা তাহলে এগুলোর অনুমোদন বন্ধ হওয়া দরকার।’