দাখিলে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বোর্ডের নতুন নির্দেশনা

দাখিল পরীক্ষায় মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বেতন ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তাদের বৃত্তির টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাংক হিসাবের নম্বর জমা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। বৃত্তি পাওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৩।
বৃত্তি বণ্টনে ছাত্র ও ছাত্রীর জন্য সমান ৫০ শতাংশ করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগের মধ্যে বৃত্তি বণ্টনের অনুপাত ৩:৩২ নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃত্তি পাওয়ার পর তা চালু রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, সদাচরণ ও সন্তোষজনক পড়াশোনার অগ্রগতি থাকতে হবে। শুধু নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এ বৃত্তি পাবেন।
শুধু সরকার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃত্তি কার্যকর হবে বলে এতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন নিতে পারবেন না। সবাই বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন দাবি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অধ্যায়নরত কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী প্রতিবছর এককালীন বৃত্তির অর্থ পাবেন।
বৃত্তির অর্থ জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের তফসিলভুক্ত অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাসম্পন্ন কোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। এরপর সেই হিসাবের নম্বর সাত দিনের মধ্যে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন, সেখানে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কোনো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে আগের ও নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।
একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির টাকা তুলতে পারবেন না বলে এতে জানানো হয়। তবে বিলম্বে ভর্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিষয় পরিবর্তন এবং অসুস্থতার কারণে সর্বোচ্চ এক বছর পড়াশোনায় বিরতি গ্রহণযোগ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বৃত্তি নিয়মিত করার শর্ত রয়েছে। সরকার চাইলে বৃত্তির সংখ্যা, হার ও মেয়াদ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।

