সিরিয়াল ছাড়া তেল না পেয়ে পাম্প কর্মচারীকে পেটালেন ছাত্রদল নেতারা

পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের ঠিক বিপরীতে কিউ জি সামদানী অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে মোটরসাইকেলে তেল নিতে ওই পাম্পে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই কর্মী সাইফ ও সুমন। সিরিয়াল ছাড়া লাইন না মেনে তেল দিতে রাজি হননি পাম্পের কর্মচারী জামিল ওয়াহেদ মুহিত। উল্টো তিনি ছাত্রদল কর্মীদের কাছে তেলের বকেয়া দাম পরিশোধের কথা বলেন। এ নিয়েই শুরু হয় বিবাদ।
একপর্যায়ে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। এরপর মুহিতকে পাম্পের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে মারধর করা হয়। ঠেকাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন পাম্পের ম্যানেজার বয়োবৃদ্ধ বশির আহমেদও। পুরো ঘটনার সময় সেখানে সূত্রাপুর থানা পুলিশের অন্তত ছয়জন সদস্য উপস্থিত থাকলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, সোমবার বিকেলেও ওই পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। সাইফ-সুমন লাইন না মেনে পাম্পে ঢুকে তেল দিতে বলেন। সিরিয়ালে থাকা মোটরসাইকেলের চালকরা এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রদলের দুজন বলেন, তারা ‘হিমেলের লোক’। কিন্তু পাম্পের কর্মচারী মুহিত লাইন ভেঙে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগের বকেয়া পরিশোধ করতে বললে ওই দুজনের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। সুমন তখন হিমেলকে ফোন করে ডেকে আনেন।
ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ মুহিত এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ফোন পাওয়ার কিছু সময় পর ৫০-৬০ জনকে নিয়ে পাম্পে আসেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। প্রথমে তিনি আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলেন। টাকা না দেওয়ায় সুমনকেও তিনি বকাঝকা করেন। তারপর কথায় কথায় আমাকে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ঢেসে ধরেন। এরপর আমার ফোন কেড়ে নিয়ে চেক করেন। সাইফ-সুমনের সঙ্গে তোলা সেলফি ডিলিট করেন। ট্রাশ ফ্লোডার থেকেও মুছে দিতে দিতে বলেন, তুই আওয়ামী লীগ করিস। এসব বলতে বলতে তারা আমাকে ইচ্ছামতো চড়-থাপ্পড় মেরেছে। হুমকি দিয়েছে, ক্যাম্পাসে ধরে নিয়ে যাবে। কান ধরতে বলেছে। আমাকে যা বলেছে আমি ভয়ে সব করেছি।’
এ সময় পাম্পের ম্যানেজার বশিরের কলার টেনে ধরে তাকেও কান ধরতে বলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, জানান মুহিত।
মুহিত আরও বলেন, এখনো তার আতঙ্ক কাটেনি। ট্রমাতে আছেন। কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
কিউ জি সামদানি অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশন ঢাকার সবচেয়ে পুরনো পেট্রোল পাম্পগুলোর একটি। ঢাকার প্রথম পাম্প হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে এটির। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত পাম্পটির বর্তমান মালিক কাজী ফিরোজ সামদানি পাবলু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমি বাইরে ছিলাম, এসে শুনি, আমার ভাগ্নে মুহিতকে মারধর করেছে। আমরা ব্যবসায়ী মানুষ। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’
এ নিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাম্পে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছোট ভাই কয়েকজনের সঙ্গে একটু ঝামেলা করেছিল। পরে মিলমিশ করে দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা না হয়, এ বিষয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলে এসেছি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। যাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে, তারা নিজেরাই সমাধান করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো ডায়েরি বা অন্য কিছু হয়নি।’