রাবিতে হলের এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিক সিট বাতিল, ভিপিকে শোকজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে একটি কক্ষে নারী থাকার সন্দেহে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) তিন শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে হল সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) শোকজ করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আবাসিকতা বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—এজিএস ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও আরবি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব জুবায়ের এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জিম। এছাড়া ওই হল সংসদের ভিপি মো. মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে ‘নারী অবস্থান’ সন্দেহে হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইনের নেতৃত্বে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো নারীকে না পেয়ে চলে যান তারা। এতে ওই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছনার অভিযোগ তোলেন। পরে এই ঘটনায় একইদিন সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষের কক্ষে সভা ডাকা হয়। সেখানে হল সংসদের নেতাদের ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এ সময় এজিএসসহ কয়েকজন অনুপস্থিত থাকায় সভা স্থগিত করা হয়। এরপর রাতভর হলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। রোববার ভোর ৫টায় সভা শেষে তিনজনের আবাসিকতা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় হল প্রশাসন।
হল প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং হলের ভিপি মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমাদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বলেন, তল্লাশির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কাজ এক্তিয়ার-বহির্ভূত। হলে কোনো তল্লাশি হলে তা প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু ঘটনায় আমরা মব হতে দেখেছি। তবে বর্তমান প্রশাসন মবের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তৎপর। কোনোভাবেই মব তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ আমরা দেব না।