ইউআইইউতে ‘হার্ভার্ড হেলথ সিস্টেমস ইনোভেশন হ্যাকাথন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো ‘হার্ভার্ড হেলথ সিস্টেমস ইনোভেশন ল্যাব হ্যাকাথন ২০২৬’-এর বাংলাদেশ পর্বের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইউআইইউর ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন (আইরিক) এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের হেলথ সিস্টেমস ইনোভেশন ল্যাব (এইচএসআইএল)-এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে একমাত্র আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা হাবের আয়োজক ছিল ইউআইইউ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বৈশ্বিক এ হ্যাকাথনের আয়োজন করল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি। সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্য হ্যাকাথন হিসেবে পরিচিত এইচএসআইএল হ্যাকাথনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে উচ্চমূল্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি’। ৪৬টি দেশের ৫০টির বেশি গ্লোবাল হাবের মাধ্যমে এতে ১৪ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। ঢাকা হাবে সারা দেশ থেকে ৬৫০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। বাছাই শেষে ৯৮ জন অংশগ্রহণকারী, ২২টি দল ও চারজন স্বতন্ত্র উদ্ভাবক অংশ নেন। এর মধ্যে ১৭টি দল ফাইনালে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে দুটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও ইউআইইউর যৌথ দল ‘টিম ম্যাভেরিক’ শিশুদের ডিসলেক্সিয়া প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ও সহায়তার জন্য এআইচালিত একটি ইন্টারেকটিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীর দক্ষতা অনুযায়ী শেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের মাধ্যমে উন্নয়নে সহায়তা করে।
অন্য বিজয়ী দল ‘শিগেলা এআই ডায়াগনস্টিকস বাংলাদেশ’, যারা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) প্রতিনিধিত্ব করে। তারা সীমিত সম্পদে শিগেলা-জনিত ডায়রিয়া শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য এআইভিত্তিক একটি ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট টুল তৈরি করেছে। এটি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নির্ধারণে চিকিৎসকদের সহায়তা করে।
বিজয়ী দল দুটি নগদ অর্থ, সনদ, এইচএসআইএল গ্লোবাল বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং হার্ভার্ড এইচএসআইএল ভেঞ্চার ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
বাংলাদেশ পর্বের বিচারক প্যানেলে ছিলেন ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন অধ্যাপক ড. লরা জে. রাইখেনবাখ, বাংলাদেশ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ সোসাইটির অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমআইএস) ডা. কুলসুম আরা, ইউআইইউ আইরিকের পরিচালক অধ্যাপক ড. খন্দকার এ. মামুন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. নুরুল হাই, ইউনাইটেড আয়গ্যাস লিমিটেডের সিইও হারুন ওরতাক এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু রায়হান আল বেরুনি।
অনুষ্ঠানের প্রোগ্রামটি স্পনসার বা পার্টনারদের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিলো প্রাইম ব্যাংক এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড, এসআরএইচআর পার্টনার হিসেবে ছিলো সুইডেন দূতাবাস, অপরাজেয় তরুণ এবং আরএইচএসটেপস। এআই হেলথ পার্টনার হিসেবে ছিলো সিএমইডি হেলথ, হট বেভারেজ পার্টনার হিসেবে ছিলো ইস্পাহানি মির্জাপুর টি এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) ও বণিক বার্তা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।