logo

গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বন্ধের হুমকি গকসু নেতাদের বিরুদ্ধে

গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বন্ধের হুমকি গকসু নেতাদের বিরুদ্ধে

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ও সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নেতাদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের অংশ হিসেবে গবিসাস বন্ধ করা হলো বলেও জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় সংগঠনটির কার্যালয়ে এসে গকসুর নেতারা এই নির্দেশ দেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খান ও এজিএস সামিউল হাসানসহ প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী গবিসাস কার্যালয়ে যান। সে সময় গবিসাসের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

গবিসাসের সদস্যরা জানান, কার্যালয়ে ঢুকে জিএস রায়হান খান অভিযোগ করেন, ভর্তি কমে যাওয়া ও বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে গবিসাস। এসব কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ম্যান্ডেটে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আজ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এ সময় টেবিল চাপড়েও কথা বলতে থাকেন তিনি। এরপর পাঁচ মিনিটের মধ্যে কার্যালয় ছাড়তে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে থাকা এক শিক্ষার্থী একটি বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করেন এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের গবিসাস সদস্যদের দিকে বই ছুড়ে মারেন। একপর্যায়ে গবিসাস নেতৃত্ব তাদের জিজ্ঞেস করেন, এভাবে বন্ধ করতে পারেন কি না।  

জবাবে গকসু নেতৃত্ববৃন্দ বলেন, গকসু প্রশাসনের একটি অংশ, এটি করতে পারেন তারা। এ সময় মৌখিক নয়, লিখিত দেন বললে, তারা লিখিত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় কয়েক দফায় গকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শীতল ও দপ্তর সম্পাদক শারমিন আক্তারসহ বেশ কয়েকজন গবিসাস সাধারণ সম্পাদককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতে চেষ্টা করেন। 

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে গবিসাস সদস্যরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় ভিপি মৃদুল দেওয়ান উপাচার্য আবুল হোসেনকে ফোন করেন। উপাচার্য সেদিনের জন্য সবাইকে চলে যেতে বলেন এবং পরে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। পরে প্রক্টর এসে বলেন, রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল চারটার দিকে গকসুর প্রতিনিধিরা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ চার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন গকসু ভিপি মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই অন্তু দেওয়ান। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভিপি মৃদুল দেওয়ান ও তার অনুসারীরা তাকে নিয়মিত হয়রানি করছেন। গত সোমবার ওই শিক্ষার্থী গবিসাস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে ভিপির স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারীসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় গবিসাস কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়। পরদিন ভিপি এসে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো সংগঠন বন্ধ করার এখতিয়ার গকসুর নেই। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন, তবে ক্যাম্পাসে না থাকায় তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেননি।

গবিসাসের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ হাসান বলেন, বিচারহীনতার কারণেই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গবিসাস কাজ করে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের পর হুমকির ধারাবাহিকতায় গকসু নিজেদের প্রশাসনের অংশ দাবি করে গবিসাস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, যা গণমাধ্যমের ওপর হুমকি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এমন আচরণ দুঃখজনক।  

২০১৩ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয়ে সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে গবিসাস।