logo

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষকদের কর্মবিরতি

নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে দুপুরের খাবার খাওয়া অবস্থায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা ডেকে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান স্নাতক পরীক্ষা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানা উল্লাহসহ শিক্ষকরা কার্যালয়ের ভেতরের একটি কক্ষে তাদের নিয়ে দুপুরে খাবার খেতে বসেন।

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও ফুলের টব ভাঙচুর শুরু করে। তারা খাবার টেবিলে গিয়ে শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দেয় এবং অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন, ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে ফেলে দেব।’

এদিন বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষের কার্যালয়ের প্রবেশপথে ভাঙা টবের অংশ এবং ভেতরে ভাঙা সিরামিক মগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। টেবিলের ওপর শিক্ষকদের খাবারগুলো অভুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল আফছার এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানা উল্লাহ অভিযোগ করেন, কলেজের উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্রদল নেতাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। এই অপমান সহ্য করার মতো নয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং বর্তমান কমিটি বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। প্রয়োজনে রাজপথে মানববন্ধন করা হবে। বিষয়টি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানানো হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল। তিনি দাবি করেন, ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের কেউ জড়িত নন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে তারা অধ্যক্ষের কাছে যান। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ ঢাকতেই এমন ‘অসত্য’ দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।