Advertisement

এসএসসির ফলাফলের পর ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এসএসসির ফলাফলের পর ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’। গত ১০ আগস্ট পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Advertisement

রোববার (১৬ আগস্ট) আঁচল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার মীম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর, কুমিল্লা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন ছাত্রী ও ৩ জন ছাত্র।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় তীব্র মানসিক চাপে পড়ে তারা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় গত মে মাসে পরীক্ষা চলাকালীন ভোলার একজন ছাত্রীও আত্মহত্যা করেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বিগত বছরগুলোতেও উদ্বেগজনক ছিল। ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩, ২০২৪ সালে ৩১০, ২০২৩ সালে ৫১৩ ও ২০২২ সালে ৫৩২ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পড়াশোনার চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল এসব আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে বলে জানানো হয়।

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, দেশের বিদ্যমান মুখস্থ ও ফলাফল-ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা এই চরম পথ বেছে নিচ্ছে। এর পরিবর্তে বাস্তবমুখী, কর্মমুখী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রতি সরকারকে মনোনিবেশ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে আঁচল ফাউন্ডেশন সরকারের কাছে ৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী অন্তত দুই সপ্তাহ পরিবার থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখা, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত কাউন্সিলর নিয়োগ, পরীক্ষার আগে ও পরে বিশেষ মানসিক সহায়তা হটলাইন চালু করা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য আচরণগত পরিবর্তন শনাক্তকরণে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের অন্য কারও সাথে তুলনা বা মানসিক নির্যাতন না করার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কাঠামো’ প্রণয়ন এবং গণমাধ্যমে আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।