৭ দিনের তদন্ত ৯ মাসেও হয়নি, বেরোবিতে দেয়াল লিখনের রহস্য অমীমাংসিত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ক্যাম্পাসের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’স্লোগান লেখার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেলেও ৯ মাসেও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের শাহাদতবার্ষিকী ও জুলাই শহীদ দিবসের আগের দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রী ছাউনি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখা দেখা যায়। অথচ ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। নিরাপত্তা সত্ত্বেও আগের রাতে দেয়ালে এ ধরনের স্লোগান লেখা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইলিয়াছ প্রামানিককে আহ্বায়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুবকে সদস্যসচিব করে ৫ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গিয়েও প্রতিবেদন জমা না পড়ায় তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে ‘ছাত্রলীগ’ লেখা দেখা যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘ ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি, এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা। এভাবে অপরাধীরা ছাড় পেয়ে গেলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসনের প্রতি আমাদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ১৬ জুলাইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে ছাত্রলীগের এমন দেয়াল লিখন খুবই ন্যক্কারজনক। এতে প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্ট। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা না দিয়ে দীর্ঘসূত্রতা করছে, এতে মনে হচ্ছে তারা ছাত্রলীগকে সুরক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসন অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাব।
বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি সুমন সরকার বলেন, এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২টি তদন্ত কমিটি হয়েছে, কিন্তু কোনোটিরই আলোর মুখ দেখা দেখেনি। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নানা আশ্বাস দেন, কিন্তু দিন শেষে শিক্ষার্থীরা কিছুই পায় না। এটি দায়িত্বের প্রতি অবহেলার ছাড়া আর কিছুই না।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. ইলিয়াছ প্রামানিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করেছি, তবে এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিটি করপোরেশনের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজও দেখা হয়েছে, সেখানেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।