Advertisement

কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন নোয়াখালীতে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন নোয়াখালীতে
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বোর্ডের ৬টি জেলার মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে নোয়াখালী জেলা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার কিছুটা বেড়েছে।

Advertisement

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮ শতাংশ, যা কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২ শতাংশ) অপেক্ষা প্রায় ৫.৪৪ শতাংশ কম। গত বছর এ জেলায় পাসের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দেখা যায় মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন পাস করেছে ৬ হাজার ৮ জন অন্যদিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন পাস করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাসের হার অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যেখানে পাসের হার ৬৮.৬৮ শতাংশ। জিপিএ হিসেবে ৬৩০টি জিপিএ-৫ পেয়ে এগিয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলা। ফলাফল খারাপ করেছে হাতিয়া উপজেলা যার পাসের হার ৪৮.৭০ শতাংশ।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায় গণিত ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা এবং অনুন্নত অঞ্চলে মানসম্মত পাঠদানের অভাবই সার্বিক পাসের হার কমে যাওয়ার অন্যতম মূল কারণ।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিক উল্লাহ বলেন, শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মান বিচার করা যায় না। তবে একটি জেলার ফলাফল যদি ধারাবাহিকভাবে বোর্ডের গড়ের নিচে থাকে, তাহলে এর কারণগুলো গুরুত্ব দিয়ে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সহায়তা কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ফলাফল পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা দরকার। উপজেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে যেখানে সমস্যা বেশি, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নোয়াখালীর ফলাফল আরও ভালো করা সম্ভব।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো আবুল কাশেম এশিয়া পোস্টকে জানান, নোয়াখালীতে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে। তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের গড় ফলাফলের তুলনায় নেয়াখালী এখনও পিছিয়ে আছে।

তিনি আরও জানান, কোন কোন বিষয়ে এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে আছে, তা ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা উপজেলাগুলোতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী ফলাফলে নোয়াখালীর অবস্থান আরও ভালো করতে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।