logo

‘গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’ ছাত্রদল নেতার বক্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা

‘গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’ ছাত্রদল নেতার বক্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা

‘গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুকের এমন বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। তার এমন বক্তব্যে সহিংসতার ইঙ্গিত থাকায় বিষয়টি দ্রুত বিতর্কের জন্ম দেয়। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওমর ফারুক বলেন, জিয়া পরিবারকে নিয়ে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য বা স্ট্যাটাস করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ‘হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।’ 

তার এই বক্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও নেটিজেনরা বক্তব্যটির শব্দচয়ন ও সম্ভাব্য সহিংস ইঙ্গিত নিয়ে সমালোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে বলেন, বক্তব্যের ভাষা ও প্রতিক্রিয়া সমাজভেদে ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হয় এবং এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্যে, সামাজিক মাধ্যমে সহিংসতার প্রতি প্রতিক্রিয়ার মানদণ্ড সমান নয় বলেও ইঙ্গিত করা হয়।

এদিকে বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীও বিষয়টি নিয়ে মতামত দেন। কেউ কেউ বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার জরুরি, আবার কেউ অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে সমালোচনা করেন।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় ওমর ফারুক পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যে শব্দচয়নজনিত ভুল থাকতে পারে এবং এটি ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। তবে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সহিংসতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার কথা বলা।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া আরেকটি প্রতিক্রিয়ায় তিনি একই ব্যাখ্যা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘হত্যা’ শব্দটি পরিকল্পিতভাবে নয়, বরং বক্তব্যের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত প্রতিরোধ বোঝাতে চেয়েছিলেন, সহিংসতা নয়।