মিমোর মৃত্যুতে জড়িতদের বিচার দাবি, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ‘আত্মহত্যার’ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
মিমোর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিভাগের দীর্ঘদিনের বিরাজমান নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মিমোর অকালমৃত্যু তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে, অনুষদে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক অভিযোগ দাখিল করার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এই সেলগুলো কোনো কাজ করে না। যদি কোনো ফলোআপ না থাকে, তাহলে এই ধরনের সেলের কোনো দরকার নেই।
তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগেও তাদের বিভাগে একটি যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল ছিল। কিন্তু সেই সেলের সদস্য ছিলেন মিমো আত্মহত্যার পেছনে দায়ী সুদীপ চক্রবর্তী।
এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আপু যে জীবন দিয়ে একটা সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলে দিয়ে গেছে, তার যেন সুষ্ঠু বিচার করা হয় এবং যে অপরাধীকে সুইসাইড নোটের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে, উনার শাস্তি দেখতে চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছি।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা সাতটি দাবি জানান। সেগুলো হলো- ১. অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানীর বিষয়ে বিভাগকে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।
২. নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবতীকে স্থায়ীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ফলাফল ও চাকরির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অনতিবিলম্বে চাকরিচ্যুত বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
৪. মিমোর পরিবারকে পরিচালনার দায়িত্বে রেখে আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কোনো চাপ যেন না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. তদন্ত সাপেক্ষে উম্মে হানীসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উভয়পক্ষ থেকে অযাচিত যোগাযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।