ভারত সফরের সিদ্ধান্ত বাউবি শিক্ষক মুনজারিনের, সমালোচনার মুখে ছুটি বাতিল

বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) সহযোগী অধ্যাপক মেহেরিন মুনজারিন রত্না ভারত সফরে যাওয়ার ছুটি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনিবার্য কারণে তার এই ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আজ ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৬ দিনের ছুটিতে ভারত সফরের অনুমতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তার এই সফর নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ছুটি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আবদুল করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি চিঠিতে অনুমোদিত বিধানের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছিল, মেহেরিন মুনজারিন রত্না ভারত সফরের যাবতীয় ব্যয় নিজেই বহন করবেন। এ সফরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা থাকবে না।
জানা গেছে, শিক্ষক মুনজারিন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হকের মেয়ে। মোজাম্মেল হক চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন বলে অনেকে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এ সময়ে বাউবি শিক্ষক মেহেরিনের ভারত সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া গুঞ্জন রয়েছে, বাউবি শিক্ষক মেহেরিন মুনজারিন রত্না বাবা আ ক ম মোজাম্মেল হকের দেখা করতেই ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনা শুরু হয়।
এর প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মেহেরিন মুনজারিন রত্নার ছুটি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আবদুল করিম বলেন, মেহেরিন মুনজারিন রত্না ভারত যেতে ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু অনিবার্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তার এই ছুটি বাতিল করেছে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মরত রয়েছেন। এ নিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন মেহেরিন মুনজারিন রত্না।
পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, তার বাবার ওপর আস্থা রেখে শেখ হাসিনা তাকে চতুর্থবারের মতো নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং তৃতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

