শিক্ষার্থীদের তথ্য সংশোধনের প্রবণতায় ঢাকা বোর্ডের উদ্বেগ

শিক্ষার্থীদের নিজ নাম, পিতা-মাতার নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্রমবর্ধমান আবেদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এতে এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অসতর্কতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য প্রদান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, কর্মজীবন ও সরকারি নথিপত্রের নির্ভুলতাকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বোর্ড। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং অন্যান্য প্রমাণিক দলিল যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ বা বোর্ডে পাঠানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডে তথ্য সংরক্ষণ এবং বোর্ডে প্রেরণের পূর্বে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অভিভাবকদের সন্তানের বয়স বাড়ানো-কমানো, নাম পরিবর্তন বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নিজ নাম, জন্মতারিখ এবং পিতা-মাতার নাম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাতে বলা হয়েছে; কারণ ফলাফল বা সনদ প্রকাশের পর সংশোধনের প্রক্রিয়াটি আরও জটিল রূপ নেয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত বিষয় নয়। যেকোনো সংশোধনের আবেদন অবশ্যই যথাযথ কারণ ও অকাট্য প্রামাণিক দলিলের ভিত্তিতে হতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুবিধা, চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিদেশে গমণ কিংবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য প্রদানের শুরুতেই নির্ভুলতা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।


