logo

বেরোবিতে ভর্তি ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধি, দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন

বেরোবিতে ভর্তি ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধি, দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে ভর্তি ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে ফি বৃদ্ধির বিষয় ও কারণ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন ১ম বর্ষে শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ৩টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তি ফি ১০০ টাকা থেকে পাঁচগুণ বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, পরিবহন ফি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মেডিকেল সেন্টার ফি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের ব্যাচের তুলনায় তাদের অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তারা।

তবে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক খাতে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অতিরিক্ত আর্থিক এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্বে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় একই ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চল থেকে আগত। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হঠাৎ করে বর্ধিত ফি বহন করা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়ে স্মারক লিপিতে তিনটি দাবি উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল খাতে আরোপিত অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি অবিলম্বে বাতিল করা, পূর্ববর্তী ব্যাচের নির্ধারিত ফি কাঠামো পুনর্বহাল করা এবং ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ পরবর্তী সেমিস্টারের ফি’র সাথে সমন্বয় বা সরাসরি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মিনার হোসেন নয়ন বলেন, ‘আমাদের ওপর পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাই এত টাকা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন আগের ব্যাচগুলোর মতো আমাদের ফিও পূর্বের হার অনুযায়ী বহাল রাখুক।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি স্মারক লিপি পেয়েছেন। তবে আমি ফি বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু জানি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘১৭ তম ব্যাচের বিষয়টি আমি এখনও অবগত নই। এর আগে ১৬তম ব্যাচের ফি বৃদ্ধি করা হয়েছিল পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বের ফি বহাল রেখে অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়া হয়েছে।’