মাদ্রাসায় এখনও সভাপতি এমপিরা, নির্বিকার আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে অন্তত দুটি কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির পদে এখনও বহাল আছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দুই সংসদ সদস্য (এমপি)। তাদের এই দায়িত্ব দিয়েছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এশিয়া পোস্টের প্রশ্নের জবাবে গভর্নিং বডি বদলের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তবে কবে নাগাদ এই পরিবর্তন সম্পন্ন হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
২০১৬ সালে সংসদ সদস্যদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার বিধান অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগও এই রায় বহাল রাখেন। ফলে এমপিদের পদাধিকারবলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ নেই।
ফাজিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসাগুলোতে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগ দেয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বগুড়ার গাবতলীর তরফ সরতাজ কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন। গত জুলাইয়ে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান। গত সেপ্টেম্বরে তাকে এই দায়িত্ব দেয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।
আদালতের রায়ের পর ২০২০ সালের আগস্টে এমপিদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি না করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিজেদের বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করেই এমপিদের মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে এমপিদের সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিল আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক এ কে মুহা. নুরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এমপি পদবি ব্যবহার করে তারা সভাপতি হতে আবেদন করেননি। তাই তাদের সভাপতি করা হয়েছে। সারা দেশের বেসরকারি ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার কমিটিতে কারা থাকবেন, এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ পদবি প্রদর্শন না করলেও সংসদ সদস্যদের সভাপতি করায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একটি বিশেষ সিন্ডিকেট করে সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি। কমিটি পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই, এই কমিটিগুলো নিয়ে অনেক ভেজাল রয়েছে।’ তবে কবে নাগাদ বিশেষ সিন্ডিকেট করে কমিটি পরিবর্তন করা হবে, সে ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।
