২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে ফল পাচ্ছে এসএসসি শিক্ষার্থীরা

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে আজ সোমবার (১০ আগস্ট)। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর ফল পেতে যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী। করোনাভাইরাস মহামারির বছর ২০২০ বাদ দিলে গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে দেরিতে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ওই সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২৮ জুলাই জানানো হয়, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের রীতি রয়েছে। গত দুই দশকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের বিশেষ পরিস্থিতি বাদ দিলে কখনোই এত বেশি সময় লাগেনি। ২০১০ সালে ৭০ দিন ও ২০১৯ সালে ৬৯ দিন সময় লেগেছিল। ২০২৫ সালে ফল প্রকাশ করা হয়েছিল ৫৮ দিনে।
এবার ফল প্রকাশে দেরির কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ব্যস্ততার কথা জানিয়েছেন। আবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা ফল প্রস্তুতে ভুল-ত্রুটি সংশোধন ও ‘ফল সমন্বয়ের’ কারণে সময় লাগার কথা বলেছেন। তবে ফল বিপর্যয়ের গুঞ্জন নাকচ করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রভাব পড়বে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতেও। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুলাই থেকে একাদশের শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। এবার ফল প্রকাশ হচ্ছে আগস্টে। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতে আরও দেড় থেকে দুই মাস লাগতে পারে। ফলে ক্লাস শুরু হতে পারে অক্টোবরের দিকে। এতে শিক্ষার্থীরা শুরুতেই প্রায় তিন মাসের সেশনজটে পড়তে পারেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আইনে নেই। তবে এটি দীর্ঘদিনের রীতি এবং শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় নষ্ট হচ্ছে। এই বিরতি কমানো গেলে শিক্ষার্থীরা কম সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারবেন।
.png)


