ঢাবি শিবির ও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আবদুল কাদেরের বিস্ফোরক মন্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিবিরের বর্তমান প্রকাশিত কমিটির আইটি সম্পাদক হাসানুল বান্না ও ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল কাদের।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা (শিবির) পরিকল্পিতভাবে এমন নোংরা রাজনীতির চর্চা করেন, সেটা এখন দেশবাসীর কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।‘
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস শেয়ার করেন। সেখানে নানা বিষয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, ‘সাদিক কায়েমের সাথে অট্টহাসিতে মশগুল ছেলেটার নাম হাসানুল বান্না। ঢাবি শিবিরের বর্তমান প্রকাশিত কমিটির আইটি সম্পাদক। আইটি সম্পাদক হিসেবে তার কাজ হচ্ছে DU insiders, ডাকসু মিম পোস্টিং, ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপোজ, রাজনৈতিক মিমসমগ্রসহ একাধিক পেইজ থেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে চরিত্র হনন করা, নারীদের অনলাইনে বুলিং করে জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা, এসব করে রাজনীতিতে নারীদের নিরুৎসাহিত করা।’
বান্নার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইটি সম্পাদক হিসেবে এসব পেইজের তদারকির দায়িত্ব তার, সবগুলাতে এডমিন হিসেবে আছেন। অথচ এই ছেলেকে বাহির থেকে দেখলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, এর দ্বারাও এমন অমানুষী কাজকারবার হয়! আইটি সম্পাদকের কাজ যে এসব করা, সেটা শিবিরকে না দেখলে বুঝতাম না!’
ঢাবিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আবদুল কাদের বলেন, ‘এই ছেলে শুধু ঢাবি শিবিরের দায়িত্বশীল না; বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপিও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওর ভূমিকা কী, তাকে কোথাও না দেখলেও; ৫ আগস্টের পরে সে হয়ে উঠে হলের একচ্ছত্র ক্ষমতাশালী। তৎকালীন হল শাখা শিবিরের পদ্মা ব্লকের সভাপতি হওয়ার সুবাদে সে এই ক্ষমতা পায়। ছিলেন ব্যাচ প্রতিনিধিও। এসব ক্ষমতা বলে সে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে হল নিয়ন্ত্রণ করত। কে হলে থাকবে আর কাকে নানান ট্যাগ দিয়ে, মামলার ভয় দেখিয়ে হল থেকে বিতাড়িত করবে, সেসব ছিল বান্না গং-এর তখনকার একমাত্র কাজ। অনেক অপরাধীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে শুধু নিজেদের লোক বলে; আবার অনেক নিরপরাধী-নিরীহ শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক হলে উঠতে দেয় নাই, বেরও করে দিছে। খোঁজ নিলে এমন ভূরি ভূরি নজির পাবেন।’
হলের সিট বণ্টন নিয়ে কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘এই বান্না ৫ আগস্টের আগেও হলে ছিলেন। পদপদবি না থাকলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আগে জয়ের গ্রুপে থাকলেও শেষের দিকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু ইউনুসের গ্রুপে রাজনীতি করতেন। ছাত্রলীগের মাদ্রাসা ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জহিরের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এই বান্না। বান্না শুধু কেবল ৫ আগস্টের পরের সিট বণ্টনে খবরদারির সাথে জড়িত ছিলেন না, ছাত্রলীগের আমলেও বড় ভাইদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে তার বিশেষ পাওয়ার ছিল। এটা তার ব্যাচমেটরা ভালো করেই জানে।’
সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘শিবির এসব কিছু অস্বীকার করে, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অতি উৎসাহী হয়ে এসব করেন বলে তারা মাঝেমধ্যে অনেক কষ্টে স্বীকার করেন; কিন্তু এই বান্নাদেরকে দিয়ে যে তারা পরিকল্পিতভাবে এমন নোংরা রাজনীতির চর্চা করেন, সেটা এখন দেশবাসীর কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’