logo

টাইগার শ্রফের ওপর গুলিবর্ষণ ও সালমান খানকে হত্যার হুমকি, আলোচিত বিষ্ণোই গ্যাং কারা

বিবিসি
বিবিসি
টাইগার শ্রফের ওপর গুলিবর্ষণ ও সালমান খানকে হত্যার হুমকি, আলোচিত বিষ্ণোই গ্যাং কারা
২০২২ সালে পাঞ্জাব পুলিশ লরেন্স বিষ্ণোইকে চাঁদাবাজির মামলার বিচারের জন্য অমৃতসর হাইকোর্টে তোলে। ছবি: বিবিসি বাংলা

মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতার গাড়িচালক ফিরদৌস, যার বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। তবে এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। মুম্বাই পুলিশের ডিসিপি মোহিত গর্গ জানান, টাইগার শ্রফের কোনো আঘাত লাগেনি। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি ঘিরে মহারাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি অভিযোগ করেছে, রাজ্যের সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান ঘটনাটিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিবসেনা-ইউবিটি দলের সাবেক রাজ্যসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সালমান খান, চলচ্চিত্র পরিচালক রোহিত শেট্টি এবং এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মুম্বাইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং কেন আলোচনায়?

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে কুখ্যাত অপরাধী লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম।

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর থেকে এই গ্যাংয়ের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। সালমানের সঙ্গে বিরোধের কারণ হিসেবে এ ঘটনাকে উল্লেখ করে আসছে লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর বিভিন্ন সময়ে অভিনেতাকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে সালমান খানের মুম্বাইয়ের বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম উঠে আসে। একই বছর সালমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হয়েছিল।

বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের লক্ষ্য করে হামলা এবং হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক রোহিত শেট্টির মুম্বাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। ওই ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আমোল বিষ্ণোইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাবার উত্তর প্রদেশের বারেলির বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার দায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোল্ডি ব্রার ও রোহিত গোদারা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্বীকার করার দাবি করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনাকে সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

বলিউডে অপরাধী চক্রের হুমকির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০০ সালে অভিনেতা হৃতিক রোশনের বাবা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ রোশন মুম্বাইয়ে তার অফিসের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে যান। চাঁদাবাজির অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১৯৯৭ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক রাজীব রাইয়ের ওপরও হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আবু সালেমের অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তদন্তের মুখে অপরাধী চক্র

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ভারতের বাইরেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ভারতীয় অপরাধী চক্রগুলোর কথিত কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের বিষয় রয়েছে।

কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও ভারতীয় অপরাধী চক্রগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনা করা জরুরি।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন হলো, কারা এ হামলা চালিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীকে দায়ী করার সুযোগ নেই। তবে একের পর এক হামলা ও হুমকির ঘটনায় মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।