স্ত্রীর চিকিৎসায় গাড়ি বিক্রি করলেন প্রাণ রায়

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রাণ রায়। অভিনেতা হিসেবে নাটক ও ছবিতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বেশ আগেই। সব কিছু ঠিকঠাক চললেও হুট করেই তার জীবনে নেমে এলো এক অন্ধকার।
গত বছরের অক্টোবর মাসে অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে নেওয়া হয় প্রাণ রায়ের স্ত্রী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক শাহনেওয়াজ কাকলীকে। চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান তিনি স্ট্রোক করেছেন। সে সময় টানা দুই মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন কাকলী।
মাসখানেক বাসায় রাখার পর চলতি মাসের প্রথম দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কাকলীকে। তারপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কাকলীর বর্তমান অবস্থা জানালেন তার স্বামী অভিনেতা প্রাণ রায়।
তিনি বলেন, এখনও কথা বলতে পারছে না। কারণ স্ট্রোকের ফলে মুখের এক অংশ বাঁকা হয়ে আছে। ওটা ঠিক করানোর জন্য চেষ্টা করছি। এখন মিরপুরে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিপিআর) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর আগে দুই মাস থেকে গেছি। মাঝে এক মাস বাসায় ছিলাম। ফেব্রুয়ারির এক তারিখে আবারও ভর্তি করলাম।
প্রাণ রায় জানান, স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান খরচ মেটাতে শখের প্রাইভেট কারটি বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে সবার সহযোগিতে নিয়েই চলছে চিকিৎসা।
উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাণ বলেন, ও (শাহনেওয়াজ কাকলী) আগে উঠে বসতে পারত না। একা বসে থাকতেও পারত না। এখন নিজ হাতে খেতে পারছে। হাঁটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও মুভ করাতে গেলেও তো অন্তত হুইলচেয়ারে কিছুক্ষণ বসে থাকতে হবে, সেই সামর্থ্য এখন আসছে। এখন হয়তো চিন্তা করব। তবে বাইরে চিকিৎসা ব্যয়সাপেক্ষ।
এদিকে, অভিনয় শিল্পী সংঘ প্রাণ রায়ের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ পরিচালকের দুঃসময়ে পরিচালক সমিতিকে পাশে পাননি বলে অভিযোগ এই অভিনেতার।
প্রাণ রায় বলেন, অভিনয় শিল্পী সংঘ একবার সাহায্য করছে। তাছাড়া নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। ওর হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে সূচনা (সূচনা শিকদার), মেরাজ ওরা সবসময় ছিল। এফডিসির প্রতিনিধিরা প্রথম দিকে হাসপাতালে এসে দেখা করছিলেন। তারপর আর কোনো খোঁজখবর রাখেননি। কাকলী যেখানকার সদস্য সেখান থেকে কোনো খোঁজ নিচ্ছে না। অভিনয় শিল্পী সংঘ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি পরিচালক সমিতি থেকে ওই ধরনের সহযোগিতা পাইনি।
২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উত্তরের সুর’ ছবি পরিচালনার মাধ্যমে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন কাকলী। ছবিটি ভারতের গোয়া, কলকাতা ও থার্ড আই মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়। সেরা ছবি, পার্শ্ব অভিনেত্রী ও শিশুশিল্পী ৩টি বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
