logo

রাজ্জাক থেকে ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠার গল্প

রাজ্জাক থেকে ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠার গল্প
নায়ক রাজ রাজ্জাক

স্বপ্ন নায়ক হওয়ার। স্কুলের গণ্ডিতেই সুযোগ পান মঞ্চনাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে। আর তাতেই ঘুরে যায় জীবনের মোড়। তৈরি হয় অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ। এরপর অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে হয়ে ওঠেন ঢাকাই সিনেমার নায়ক ‘রাজ রাজ্জাক’। শুরু হয় চলচ্চিত্রে তার পথচলা।

নায়ক রাজ রাজ্জাক
নায়ক রাজ রাজ্জাক

কলকাতার টালিগঞ্জে ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্ম নেন রাজ্জাক। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্পোর্টস শিক্ষকের হাত ধরেই মঞ্চে অভিষেক রাজ্জাকের। এসএসসির পর টেলিভিশন নাটকেও অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। দর্শকমহলে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়।

১৯৫৮ সালে কলেজ জীবনে অজিত ব্যানার্জির ‘রতন লাল বাঙালি’ ছবিতে ‘পকেটমার’ চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। কলকাতায় থাকাকালীন ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও নায়ক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা যেন পিছু ছাড়ছিল না তার। তিনি বুঝতে পারেন টালিগঞ্জে স্বপ্ন পূরণে খুব একটা এগিয়ে যেতে পারবেন না। তাই নায়ক হওয়ার আশা নিযে ১৯৫৯ সালে পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে।

মুম্বাইয়ে গিয়ে অভিনয়শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফিল্মালয়ে ভর্তি হন রাজ্জাক। কিন্তু সেখানেও শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নিতে পারেননি এই কিংবদন্তি। ব্যবসা কিংবা চাকরি— কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারেননি অভিনেতা। স্বপ্ন একটাই নায়ক হবেন। পরবর্তীতে কলকাতার নির্মাতা পীযূষ বোসের পরামর্শেই ঢাকায় আসেন রাজ্জাক।

নায়ক রাজ রাজ্জাক
নায়ক রাজ রাজ্জাক

ঢাকাই চলচ্চিত্রে ১৯৬৫ সালের ‘আখেরি স্টেশন’ সিনেমায় প্রথম অভিষেক হয় তার। এরপর নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। একসময় পরিচয় হয় কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের সঙ্গে। তার হাত ধরেই ‘বেহুলা’ ছবিতে প্রথম নায়ক হওয়ার সুযোগ পান রাজ্জাক। মুক্তির পর দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলে ছবিটি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রাজ্জাককে। সিনেমায় একের পর এক সাফল্যে উচ্চতার অনন্য শিখরে পৌঁছে যান তিনি। একসময় তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘নায়করাজ’ উপাধি।

পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ‘রংবাজ’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘অবুঝ মন’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘আলোর মিছিল’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজ্জাক।

নায়ক রাজ রাজ্জাক
নায়ক রাজ রাজ্জাক

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার রয়েছে তার সফলতার ঝুরিতে। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। চলচ্চিত্রে তার প্রস্থান যেন পূরণ হওয়ার নয়। তবে সবার মন জয় করে নেওয়া এই কিংবদন্তি ঢাকাই সিনেমার মুকুট হয়েই থেকে যাবেন আজীবন।