মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন মাহি

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর মুকুট জিতেছেন জনপ্রিয় মডেল ও ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী সামিরা খান মাহি। শিরিন শিলা, আনিকা আলম ও তানজিয়া জামান মিথিলার ধারাবাহিকতায় এবার মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সামিরাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। বিজয়ী হিসেবে মাহির নাম ঘোষণার সময় মঞ্চে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। নাম ঘোষণা হতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর গত বছরের ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন এবং তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। দুই সুন্দরীর একসঙ্গে মঞ্চে হাঁটার সময় করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

অনুষ্ঠানে মাহির পরনে ছিল ভারী পাথরের কাজ করা শ্যাম্পেন-গোল্ড রঙের ঝলমলে মারমেইড অফ-শোল্ডার গাউন। অন্যদিকে বিদায়ী বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা পরেছিলেন হালকা নীল ও সিলভার রঙের গাউন, যার কাঁধের নকশা ছিল পাখার মতো। বিজয়ী ঘোষণার সময় মঞ্চে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জাও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ নভেম্বর ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে বসবে মিস ইউনিভার্সের ৭৫তম আসর। তবে এর আগে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে ১১ নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে রওনা হবেন মাহি। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়বেন তিনি।
এর আগে ২০১৯ সালে শিরিন শিলা, ২০২৪ সালে আনিকা আলম এবং ২০২৫ সালে তানজিয়া জামান মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশেষ করে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তানজিয়া জামান মিথিলা বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন।

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো প্লেসমেন্ট অর্জন। পাশাপাশি পিপলস চয়েস বিভাগেও শীর্ষস্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন তিনি।
এবার সেই বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মাহি বলেন, ‘একটা সুবিধা হচ্ছে, এর ঠিক আগের আসরে আমার খুব কাছের বড় বোন, বন্ধু মিথিলা আপু ছিলেন। তিনি পাঁচ দিন ধরে আমাকে সার্বক্ষণিকভাবে দেখভাল করছেন। আমার কস্টিউম, স্টাইলিং, সবকিছুতে সহযোগিতা করছেন। আমি খুবই ভাগ্যবান, তার মত একজন বড় বোন ও বন্ধুকে পাশে পেয়েছি। তিনি নিজেও মিস ইউনিভার্সে অংশ নিয়ে অনেক কৌশল শিখেছেন। আমার হয়তো আগে এই আয়োজনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি, কিন্তু আপুর কাছ থেকে যা শিখেছি, তা সারা জীবনের অভিজ্ঞতার মতো। মিথিলা আপু আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করবেন।’