logo

প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমানের জীবনাবসান

প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমানের জীবনাবসান
প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমান মারা গেছেন। সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আতাউর রহমানের কন্যা শর্মিষ্ঠা রহমান গণমাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তার মরদেহ হাসপাতালে রাখা আছে। মঙ্গলবার (১২ মে) শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে দাফন করা হবে।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীর ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। শৈশব থেকেই সাহিত্য, অভিনয় ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও জীবনের প্রকৃত ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন নাটককে। ষাটের দশকে তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের আধুনিক নাট্যআন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ।

স্বাধীনতা-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যারা কাজ করেছেন, আতাউর রহমান তাদের অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক নির্দেশনা ও নাট্যরচনায়ও সমান দক্ষতা দেখান। তার নির্মাণে সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট, রাজনৈতিক অভিঘাত ও মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন উঠে এসেছে সংবেদনশীল ভাষায়।

নাট্যসংগঠক হিসেবেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটেরর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নাট্যচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, নাট্যআন্দোলনের বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।

সাহিত্যচর্চাতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। তার লেখা নাটক, প্রবন্ধ ও রম্যরচনায় সমাজ পর্যবেক্ষণের সূক্ষ্মতা এবং ব্যঙ্গরসের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ‘ষষ্ঠী তৎপুরুষ’, ‘দুই দুগুণে পাঁচ’ ও ‘মধ্যরাতের জোকস’-এর মতো গ্রন্থ তার সাহিত্যিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।