logo

রহস্য আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে ‘মুয়াম্মা’-এ বুঁদ দর্শক

রহস্য আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে ‘মুয়াম্মা’-এ বুঁদ দর্শক

হৃদয়গ্রাহী প্রেমের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সামাজিক ভাষ্যের এক দুর্দান্ত মিশেলের গল্প ‘মুয়াম্মা’। সাবা কামার জামান, আলী আনসারি ও শেহজাদ শেখ অভিনীত পাকিস্তানি এই সিরিয়াল দর্শকদের হৃদয়কে আন্দোলিত করেছে। এ বছরের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয় পাকিস্তানি নাটক ‘মুয়াম্মা’। টিআরপি ৯ প্রমাণ করে যে, নাটকটি নিয়ে মানুষের আবেগ কতটা তুঙ্গে। 

পাকিস্তানের বেশ কিছু প্রতিভাবান অভিনেতার সমন্বয়ে নির্মিত মাস্টারপিস নাটকটি হাম টিভিতে দেখা যাচ্ছে। প্রেম, সাসপেন্স ও মানসিক উত্তেজনার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সামাজিক বিষয়গুলো যেভাবে এই নাটকে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা এক কথায় দুর্দান্ত। শুধু টেলিভিশনের পর্দাই নয়, দর্শকদের আবেগের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র প্রতিফলন। রহস্য আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে নির্মিত ‘মুয়াম্মা’-এ দর্শকরা থাকছেন বুঁদ হয়ে।

সাইকোলজিক্যাল সাসপেন্স ড্রামা ‘মুয়াম্মা’ ২০২৫ সাল থেকে হাম টিভিতে দর্শকরা উপভোগ করছেন। সাবা কামার জামানের অনবদ্য অভিনয় আর আলি আনসারির সাবলীল উপস্থিতি ধারাবাহিকটিকে করে তুলেছে অনন্য। ধারাবাহিকটি জাহান আরা নামের এক নারীর বাড়ির ভাড়াটেদের ঘিরে আবর্তিত হয়, যেখানে লুকানো ট্রমা, ক্ষমতা ও আবেগের জটিল খেলা দেখানো হয়েছে যদিও রহস্যময় নাটকটি কিছুটা ধীর গতির, তবে একে প্রাঞ্জল করে তুলেছে কাস্টিংদের শক্তিশালী উপস্থিতি। 

‘মুয়াম্মা’ নাটকের একটি দৃশ্য

শৈশবের মানসিক আঘাত ও নির্যাতন কীভাবে একটি মনকে সারাজীবনের জন্য প্রভাবিত করে, তার একটি সূক্ষ্ম রেখা দেখা যায় সাবা কামারের অভিনয়ের কুশলতায়। যেখানে মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেখানে মেয়েদের সম্মান করা হয় না বা সমান মর্যাদা দেওয়া হয় না, কারণ তাদের অকেজো বলে মনে করা হয়। আর এই মর্যাদা রক্ষার্থে একজন মেয়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সত্যিই অভাবনীয়। জীবনের এই মর্যাদার লড়াইয়ে সে জয়ী হোক বা না হোক, তাকে কখনও থামানো যায় না। মর্মস্পর্শী ‘মুয়াম্মা’ নাটকে এরই বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়।

শাকিল খান ‘মুয়াম্মা’ এমনভাবে পরিচালনা করছেন যে, সিরিয়ালটি তার গাঢ় পরিবেশ এবং সম্পর্কের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো সুনিপুণভাবে দর্শকদের হৃদয়ের কাছাকাছি তুলে ধরতে পারছেন। পরিচালকের এই চেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।

সম্প্রতি অভিনেত্রী সাবা কামার ইসলামাবাদের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ‘মুয়াম্মা’ নাটকের শুটিংয়ের একটি ঝলক শেয়ার করেছেন। যেখানে কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা ফুটেছে চমৎকারভাবে। প্রচণ্ড শীত সত্ত্বেও তিনি শুটিংয়ের জন্য রেশমি পোশাক পরেছিলেন, যা শিল্পী-কলাকুশলীদের নিজেদের কাজের প্রতি থাকা অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন যতই থাকুক না কেন, বিনোদন ভুবনে সেই আঁচ থাকে না খুব একটা। রোমান্স, রহস্য ও সামাজিক নাটকের এক শক্তিশালী মিশ্রণ থাকায় পাকিস্তানি নাটকগুলো এখন বাংলাদেশ-ভারতে ব্যাপক জনপ্রিয়। পাকিস্তানিরা যেভাবে ভারতীয় সিনেমা উপভোগ করে, তেমনি ভারতের দর্শকরা পাকিস্তানি নাটক উপভোগ করে। এসব নাটকে থাকে আবেগপ্রবণ গল্প, শক্তিশালী অভিনয় এবং পর্দায় রোমান্টিক জুটি।

‘মুয়াম্মা’র প্রতিটি দৃশ্যই অর্থবহ এবং সুন্দরভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। সত্যিই মনে হচ্ছে, জিজি অবশেষে তার কর্মফলের দিকে এগোচ্ছে, এবং গল্পটিও চমৎকারভাবে এগিয়ে চলেছে।