মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন বাংলাদেশের তারকারা

লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটাও লেখা হয়ে থাকল তার নামেই। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও দুটি গোল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ রাতটায় মেসিকে ঘিরে ছিল আবেগ আর নস্টালজিয়া। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে বিদায় নেন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফুটবলার। ১২৬ গোল ও ২০৮ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা জয়ী মেসি।
মাঠের সেই আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। কারও কথায় দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, কারও পোস্টে প্রিয় তারকাকে হারানোর কষ্ট।
আবেগঘন প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা পোস্ট করেছেন তার ফেসবুকে। মেসিকে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে বিদায়ের কষ্টটাও যেন মিশে গেছে তার কথায়। পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘জীবনের সব দুঃখ এক পাশে, আর অন্য পাশে মেসিকে হয়তো শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দেখতে পাওয়ার বেদনা!’
মেসির বিদায়কে কেবল একটি ম্যাচের সমাপ্তি হিসেবে দেখেননি চিত্রনায়িকা পরী মণি। তার কাছে এটি একটি যুগের শেষ। বিদায়ী ম্যাচের আগে তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজকের এই ম্যাচ শুধু একটা ম্যাচ নয়… আজ একটা যুগের শেষ অধ্যায়।’
মেসিকে ঘিরে নিজের দীর্ঘদিনের স্মৃতির কথাও তুলে ধরেছেন পরী মণি। তার ভাষায়, মেসির খেলা দেখতে কত রাত জেগেছেন, গোলের পর উচ্ছ্বাস করেছেন, আবার দলের হারে কেঁদেছেন- বিদায়ের মুহূর্তে সব স্মৃতিই যেন একসঙ্গে ফিরে এসেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার আনন্দের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।
পরী মণি লিখেছেন, ‘আজ স্কোরলাইন যাই হোক, জয়-পরাজয় এখানে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ শুধু চাই, শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে তাকে মন ভরে দেখতে।’ শেষে প্রিয় ফুটবলারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিদায় নয়, লিও তুমি তো ফুটবলের ইতিহাসে থেকে যাবে। আর্জেন্টিনার জার্সি বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, কিন্তু ১০ নম্বরের গল্পটা কখনো শেষ হবে না। ভালোবাসা প্রিয়।’
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব অবশ্য খুব সংক্ষিপ্তভাবেই জানিয়েছেন নিজের অনুভূতি। মেসির বিদায়ী মুহূর্তে তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, লিও মেসি।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ভালোবাসার ইমোজি।
অন্যদিকে অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ মেসিকে অভিহিত করেছেন ‘সোনালী যুগের জাদুকর’ হিসেবে। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সোনালী যুগের জাদুকর, তোমার যাত্রা শেষ হলেও আমাদের স্মৃতিতে তুমি থাকবে আজীবন! শেষবারের মতো আরও একবার লিওনেল মেসি।’
সংগীতশিল্পী বেলাল খানও মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার বার্তায় উঠে এসেছে শৈশব, আবেগ আর প্রিয় ফুটবলারের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা। তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, লিও। কিংবদন্তিরা মাঠ ছাড়েন, হৃদয় নয়। লিও মেসি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে। তুমি ছিলে আমাদের আবেগ, আমাদের শৈশব, আমাদের গর্ব। চিরকাল ভালোবাসা, লিওনেল মেসি।’
সব মিলিয়ে মেসির বিদায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও ছিল আবেগের এক মুহূর্ত। বিশেষ করে যারা ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে ১০ নম্বরকে দেখে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এই বিদায় কেবল একজন ফুটবলারের জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনা নয়। প্রিয় এক ফুটবল-যুগের পর্দা নামার অনুভূতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।