সংগীতভুবনে আশা ভোসলের প্রারম্ভিক পথচলা

কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে থেমে গেল সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোসলের জাদুকরী কণ্ঠ। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত এই সংগীতশিল্পী।
যুগের পর যুগ আশা ভোসলের কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হয়েছে মনোমুগ্ধকর সব গান। মাত্র ১০ বছর বয়সে কিংবদন্তি শিল্পী বড় বোন লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে শুরু হয় তার সংগীতে পথচলা। সেই থেকে তিনি গেয়ে চলেছেন অবিরাম। ছয় যুগেরও বেশি সময় তিনি হিন্দি, উর্দু, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভার কারণে গণমাধ্যমে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাবা দীনানাথ মুঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর বড় বোন লতা মুঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য চলচ্চিত্রে গান গাওয়া ও অভিনয় শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ভাষার ‘মাঝা বল’ সিনেমায় ‘চল চল নব বল’ দিয়েই তার সংগীতভুবনে পদার্পণ। আর হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয় হংসরাজ বেহলের ‘চুনারিয়া’ সিনেমায় ‘সাবন আয়া’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে।
ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক মোহাম্মদ জহুর খৈয়াম আশা ভোসলেকে সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেন। পঞ্চাশের দশকে খৈয়ামের পরিচালনায় ‘দর্দ’ , ‘ফির সুবাহ হোগি’ দিয়ে শ্রোতাহৃদয় জয় করে নেন আশা। ‘উমরাও জান’ সিনেমায় এই যুগলের গানগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
এরপর সুরকার রবি, শচীন দেববর্মণ, রাহুল দেব বর্মণ, এ. আর. রহমানের মতো কিংবদন্তি সংগীত পরিচালকদের সঙ্গ কাজ করেন। বাংলা ভাষায় তার প্রথম আলোচিত গান ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’। ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলা সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন। সেই থেকে বাংলাতেই দুই শতাধিক গান গেয়েছেন।

নানা চড়াই-উৎরাই পরিপূর্ণ জীবনে আশা ভোসলে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননাসহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও দুবার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান। ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।

সংগীত জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনায় আশা ভোসলে বলেন—‘আমার জীবনের কথা মিলে যায় “জিন্দেগি ক্যায়সি হ্যায় প্যাহেলি হায় কাভি তো হাসায়, কাভি ইয়ে রুলায়” গানের সঙ্গে।’
মহীয়সী এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে বলিউড, টলিউডসহ পুরো সিনে অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিনোদন ভুবনের তারকারা জানাচ্ছেন শোক ও শ্রদ্ধা।