শিল্পের মাধ্যমে মানবতার পাশে নওশাবা

সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে আলাদা পরিচিতি রয়েছে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের। অভিনয়ের পাশাপাশি মানুষ ও প্রাণীর জন্যও নিয়মিত কাজ করেন তিনি। বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা তার প্ল্যাটফর্ম ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর মাধ্যমে এবার ক্যানসার আক্রান্ত এক মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াচ্ছেন নওশাবা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২১ ও ২২ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী উৎসব ‘মায়ের জন্য টুগেদার উই ক্যান’। গান ও নাটকের এ আয়োজনের টিকিট বিক্রির অর্থ ব্যয় হবে ৫৭ বছর বয়সী শাহিন সুলতানার চিকিৎসায়।
চলতি বছরের জুনে শাহিন সুলতানার রেকটাল ক্যানসার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি রোগটির চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনটি কেমোথেরাপি নিয়েছেন তিনি। চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন শাহিন। এখন পর্যন্ত তার চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। চিকিৎসকদের ধারণা, শারীরিক অবস্থা সামলে উঠতে পারলে তাকে মোট ১২টি কেমোথেরাপি নিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় ৬৫ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।
মায়ের এই কঠিন সময়ে পরিবারের অন্যতম প্রধান সহায় হয়ে উঠেছেন তার মেজ মেয়ে ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যতত্ত্বে স্নাতকোত্তর করছেন চূড়া। মায়ের অসুস্থতার কারণে নিজের শেষ পরীক্ষাটিও দিতে পারেননি তিনি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের জন্যও তাকে লড়াই করতে হচ্ছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বন্ধুদের কাছ থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছিল পরিবারটি। এবার মায়ের চিকিৎসার জন্য মঞ্চনাটককে হাতিয়ার করেছেন চূড়া। ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর সহযোগিতায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মঞ্চনাটক প্রদর্শনের মাধ্যমে সাড়া পেয়েছিলেন তিনি। সেই আয়োজনের শিল্পী ও সহকর্মীরাও নিজেদের পারিশ্রমিক তুলে দিয়েছিলেন চূড়ার হাতে।
এবার রাজধানীতে বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে ‘মায়ের জন্য টুগেদার উই ক্যান’। উৎসবের প্রথম পর্বে থাকবে ‘ধরণীর গান’। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও দৃষ্টিহীন শিশুদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। এরপর রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যোপন্যাস অবলম্বনে নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। নাটকটি মঞ্চস্থ করবে ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া ও তার দল।
উৎসবটি নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় কাজী নওশাবা আহমেদ বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং একার পক্ষে তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। ‘টুগেদার উই ক্যান’ সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব ও একতায় বিশ্বাস করে বলেই এবার টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এমন একটি আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে উৎসবে এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নওশাবার ভাষায়, ‘ধরণী হচ্ছে মা। আমরা মায়ের জন্য, মাকে সুস্থ করে তুলতে গান করব, নাটক করব।’

‘টুগেদার উই ক্যান’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অমিত সিনহা জানান, ২০১৮ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই তাদের কার্যক্রমে সামাজিক দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সহকর্মী চূড়ার মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তার মতে, শিল্প শুধু আনন্দ দেওয়ার মাধ্যম নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও শক্তিশালী অনুষঙ্গ।
২১ ও ২২ আগস্ট প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় নাট্যশালার গেট খুলবে। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ‘ধরণীর গান’ এবং রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। উৎসবে যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ ও ১ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীরা বিশেষ ছাড়ে ৩০০ টাকায় টিকিট কিনতে পারবেন।
একটি টিকিট কেনার মধ্য দিয়েই তাই এবার শুধু গান ও নাটকের উৎসবে অংশ নেওয়া নয়, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা একজন মায়ের চিকিৎসার পথেও সহযোগী হওয়ার সুযোগ থাকছে দর্শকদের।


