
মার্কিন কান্ট্রি মিউজিকের কিংবদন্তি শিল্পী ডলি পার্টন আর নেই। মরণব্যাধী ক্যানসারের সঙ্গে স্বল্পকালীন লড়াই শেষে জীবনের কাছে হার মানলেন প্রভাবশালী গীতিকার ও সমাজসেবী। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলের তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পার্টনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী টেনেসির ন্যাশভিলে ভ্যান্ডারবিল্ট-ইঙ্গরাম ক্যানসার সেন্টারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
পার্টনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার ভাগনে ব্রায়ান সিভার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘ডলি এখন আলোর মাঝে বাস করছেন এবং যিশুর কোলে রয়েছেন। সেখানে নিশ্চয়ই কার্ল, তার বাবা-মা এবং আরও অগণিত মানুষ, যারা তাকে দেখতেন ও স্বর্গের আলোয় তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আকুল ছিলেন, তারা তার সাথে মিলিত হবেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ডলি সর্বস্তরের এবং প্রতিটি মহাদেশের প্রজন্মের পর প্রজন্মের গায়ক, গীতিকার, সংগীতশিল্পী ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন। তার জীবন থেকে আমরা শিখেছি যে সবকিছুই সম্ভব। তিনি এমন কোনো বন্ধ দরজা দেখেননি যা তিনি খুলতে পারতেন না এবং তার খোলা প্রতিটি পথই ইতিহাস তৈরি করেছে।’
সাত দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে পার্টন ‘জোলিন’. ‘৯ টু ৫’ এবং ‘কোট অব মেনি কালারস’-এর মতো বিশ্বখ্যাত কালজয়ী শত শত গান রচনা করেছেন। বিশাল সোনালি পরচুলা, ঝলমলে পোশাক ও বিশেষ রসিকতাবোধের মাধ্যমে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রতীকে পরিণত করেন। টেনেসির এক সাধারণ কাঠের কেবিনে সাধারণ জীবন শুরু করে তিনি অর্জনের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেন।
তার সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল পারিবারিক গির্জায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের প্রখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওল অপেরা’-তে গান গেয়ে সাড়া ফেলেন পার্টন। সেখানে সংগীত তারকা জনি ক্যাশ তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ‘পূর্ব টেনেসি থেকে আসা এক ছোট্ট মেয়ে’ হিসেবে।
দারিদ্র্যের মাঝে ১২ ভাইবোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা পার্টন পরবর্তীতে শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ নামের একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা গড়ে তোলেন। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে বই উপহার দেয়।
পার্টনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সম্মানে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। কান্ট্রি মিউজিক হল অব ফেম অ্যান্ড মিউজিয়ামের সিইও কাইল ইয়ং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডলি পার্টনের আসল পরিচিতি শুধু খ্যাতিতে নয়, তার মানবতায়। তিনি দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে উঠে এসে টেনেসি তথা বিশ্বসংগীতের সম্পদ হয়ে উঠেছিলেন।’
১৯৯৯ সালে ‘কান্ট্রি মিউজিক হল অফ ফেম’-এ স্থান পাওয়া এই সংগীতশিল্পী তার ঝুলিতে পুরেছেন ১০টি গ্র্যামি পুরস্কার ও ৫৫টি মনোনয়ন। এসব পুরস্কার তাকে গ্র্যামির ইতিহাসে অন্যতম সেরা নারী শিল্পীর মর্যাদা দিয়েছে।



