logo
Advertisement

পাকিস্তানি নাটকে দুরেফিশান-নামিরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
পাকিস্তানি নাটকে দুরেফিশান-নামিরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক

পাকিস্তানি টেলিভিশনের নতুন আলোচিত ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’। প্রচারের পর থেকেই গল্প, চরিত্র ও আধ্যাত্মিকতার নানা দিক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ কয়েকটি পর্বের পর নাটকটি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে জায়াব ও জামিলের সম্পর্কের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দর্শকরা।

Advertisement

ধারাবাহিকটিতে জায়াব চরিত্রে অভিনয় করছেন দুরেফিশান সলিম, আবু বকর চরিত্রে শেহরিয়ার মুনাওয়ার এবং জামিল চরিত্রে নামির খান। উমেরা আহমেদের গল্পে নির্মিত নাটকটি পরিচালনা করছেন সাকিব খান। এআরআই ডিজিটালের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিকটি শুক্রবার ও শনিবার রাত ৮টায় প্রচারিত হচ্ছে। গল্পে প্রেম, বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পর্বগুলোর একটিতে জামিলের বাড়িতে যায় জায়াব। এরপর গল্প সরাসরি পরদিন সকালের দৃশ্যে চলে যায়। জায়াবের দাদি তাকে কোথায় ছিল জানতে চাইলে সে কোনো উত্তর দেয় না। একই সময়ে জায়াবের মুখ ও হাত ধোয়ার একটি দৃশ্য দেখানো হয়।

এই দৃশ্যগুলোর ধারাবাহিকতা দেখে দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, আগের রাতে জায়াব ও জামিলের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। নির্মাতারা সরাসরি কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখাননি, বরং ইঙ্গিতের মাধ্যমে বিষয়টি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক দর্শক সরাসরি নাট্যকার উমেরা আহমেদকে প্রশ্ন করেন, জায়াব ও জামিলের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়াই কি ওই দৃশ্যের উদ্দেশ্য ছিল?

জবাবে উমেরা আহমেদ শুধু লেখেন, ‘হ্যাঁ।’ তার এই সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রকাশ্যে আসার পরই নাটকটি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

উমেরা আহমেদের এই বক্তব্যের পর দর্শকদের একটি অংশ নির্মাতাদের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরাসরি কোনো দৃশ্য না দেখিয়েও সংবেদনশীল একটি বিষয়কে গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ‘দার-ই-নিজাত’ একই সঙ্গে দীন ও দুনিয়ার দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং তার পরিণতি নিয়ে দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করছে।

এক দর্শক নাটকের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রশংসা করে মদ ও হায়া বা লজ্জার প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে আবু বকরের গল্পে আসা পরিবর্তন এবং উমেরা আহমেদের লেখার ধরন নিয়েও প্রশংসা করেছেন। আরেক দর্শকের মতে, ধারাবাহিকটি এমনভাবে গল্প এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে প্রতিটি পর্বের পর পরবর্তী ঘটনায় কী ঘটবে, তা জানার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

তবে বিপরীত মতও কম নয়। দর্শকদের একটি অংশ মনে করছেন, মূলধারার টেলিভিশন নাটকে এমন সম্পর্কের ইঙ্গিত দেখানো কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে যে ধরনের নাটক দেখেন, সেখানে এ ধরনের বিষয় তরুণ দর্শকদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

কেউ প্রশ্ন করেছেন, ‘দৃশ্যটি কি সত্যিই প্রয়োজন ছিল?’ আবার কেউ পাকিস্তানি নাটকের পুরোনো পারিবারিক বিনোদনের ভাবমূর্তির সঙ্গে বর্তমান সময়ের গল্প বলার ধরন তুলনা করে সমালোচনা করেছেন। ফলে ‘দার-ই-নিজাত’ এখন শুধু একটি প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার গল্প নয়; এর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এদিকে ‘দার-ই-নিজাত’ নিয়ে এর আগেও আলোচনায় এসেছেন দুরেফিশান সলিম। নাটকে জায়াব চরিত্রের ইংরেজি সংলাপ বলার ধরন ও উচ্চারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

জায়াবকে নাটকে উচ্চবিত্ত পরিবারের এমন এক তরুণী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যে ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ভাবছে। চরিত্রটির ইংরেজি সংলাপ ও উচ্চারণ অনেক দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনাও ঘটে।

দুরেফিশানের পাশে দাঁড়ান অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিনেত্রীর উচ্চারণ নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনাকে ‘খুবই অপ্রয়োজনীয়’ এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতি অসংবেদনশীল বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের পর বিতর্কটি আরও বিস্তৃত হয়, অভিনয়ের সমালোচনা কোথায় শেষ হয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

১৯৯৪ সালের ১৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম দুরেফিশান সলিমের। তার বাবা সলিম-উল-হাসান পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে পরিচিত। দুরেফিশান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে করাচিতে পাড়ি জমান।

২০২০ সালে ‘দিল রুবা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ভারা’, ‘কিসি তেরি খুদগারজি’, ‘ইশক মুর্শিদ’সহ বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন।

‘দার-ই-নিজাত’-এ দুরেফিশানের জায়াব, শেহরিয়ার মুনাওয়ারের আবু বকর এবং নামির খানের জামিল- এই তিন চরিত্রকে ঘিরেই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত তৈরি হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর এখন দর্শকদের নজর, গল্প কোন দিকে মোড় নেয় এবং জায়াব-জামিলের সম্পর্কের পরিণতি কী হয়, সেদিকে।

সূত্র: দ্যা সিয়াসাত ডেইলি, এআরআই ডিজিটাল