logo

কলকাতায় বিভূতিভূষণকে ঘিরে অনন্য প্রদর্শনী

কলকাতায় বিভূতিভূষণকে ঘিরে অনন্য প্রদর্শনী

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে বিস্ময় আর আবিষ্কারের আবহ তৈরি হল কলকাতায়। তার জন্মশতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও পাঠকমনে তার আবেদন আজও অমলিন, এই বার্তাই উঠে এলো এক বিশেষ প্রদর্শনীতে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটির (কেসিসি) উদ্যোগে ‘পথের দেবতা: গড অব দ্য লিটল রোড’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। আনুষ্ঠানিক সূচনার আগেই প্রদর্শনীকক্ষে প্রবেশ করতেই দর্শকদের সামনে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে লেখকের সৃষ্ট জগৎ, নীল রঙের হাফহাতা বাংলা শার্ট যেন স্মরণ করিয়ে দেয় ‘পথের পাঁচালী’ ও ‘চাঁদের পাহাড়’-এর স্রষ্টাকে।

প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর সূচনা করেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী-পরিচালক অপর্ণা সেন, বিভূতিভূষণের পুত্রবধূ মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিউরেটর ও পৌত্র তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেসিসির প্রেসিডেন্ট রিচা আগরওয়াল।

প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে বিভূতিভূষণের ব্যবহৃত পোশাক, দৈনন্দিন সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, চিঠিপত্র, দিনলিপি এবং পারিবারিক আলোকচিত্র। পাশাপাশি স্থান পেয়েছে তার সমকালীন লেখক বন্ধুদের ছবি ও পরিচিতিও, যা সময়ের এক বিস্তৃত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায় শোনান এক তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি। তিনি জানান, তাঁর ঠাকুরমা একবার বাড়ির জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে স্বপ্নে বিভূতিভূষণকে দেখেন। স্বপ্নে লেখক নাকি বলেন, “ওগুলো রেখে কী করবে? আমার জিনিসগুলো নাও।” এরপর থেকেই তিনি যত্ন করে সংরক্ষণ করতে শুরু করেন লেখকের পাণ্ডুলিপি, ডায়েরি ও চিঠিপত্র—যার বড় অংশই এখন জনসমক্ষে প্রদর্শিত।

অন্যদিকে অপর্ণা সেন স্মরণ করেন চলচ্চিত্র জগতের এক অজানা ঘটনা। ‘আরণ্যক’ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের এক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত থেমে যায় আপত্তির মুখে। সংশ্লিষ্ট পরিচালকের দাদা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন উদ্যোগ নিলে বাঙালির তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ফলে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

সব মিলিয়ে, এই প্রদর্শনী শুধু একজন সাহিত্যিককে স্মরণ নয়, বরং তার সৃষ্ট জগত ও সময়কে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য প্রয়াস।