দেশ ছেড়ে ভাগেন, সন্তান যেন লাশ হয়ে না ফেরে: ইরফান সাজ্জাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সি ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শিশুটিকে নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন নেটিজেনরা। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করছেন অনেকে।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও। শিশুটির এমন পরিণতিতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর পোস্ট দেন ইরফান। সেখানে শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিজের ক্ষোভের কথাও জানান তিনি।
পোস্টের শুরুতেই অপ্রতিমকে নিয়ে আবেগ প্রকাশ করে ইরফান লেখেন, ‘আহা বাচ্চাটা! বাংলাদেশি হিসেবে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হওয়া উচিত বাংলাদেশই ছেড়ে দেওয়া। যারা অলরেডি ছেড়ে গেছেন, এই অভিশপ্ত দেশ থেকে বেঁচে গেছেন।’
এরপর লেখেন, ‘সবাই সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু কেউ ন্যূনতম নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে না।। আর যে দেশে প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকার পরও বিচার হয় না সে দেশ জীবনেও নিরাপদ হবে না।’
সবশেষে ক্ষুব্ধ ইরফানের পরামর্শ, ‘যদি সামর্থ্য থাকে সুযোগ থাকে এই দেশ ছেড়ে ভাগেন। যাতে আপনার সন্তানকেও অলস শুক্রবারের দুপুরবেলা বাসা থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরে আসতে না হয়।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছেলের নিখোঁজের কথা জানান। ছেলেকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। আজ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

