বৈশাখে টেপা পুতুলের ছোঁয়া, নতুন আয়োজনে ‘বিশ্বরঙ’

বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও চেতনাজুড়ে বৈশাখের এই আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে বরাবরের মতো এবারও বিশেষ আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ।
দেশীয় ফ্যাশন শিল্পে লোকঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করার পথিকৃৎ হিসেবে ১৯৯৪ সালে কাজ শুরু করেন প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। তার প্রতিষ্ঠিত বিশ্বরঙ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঙালির উৎসবকে ঘিরে নিজস্ব ধারা তৈরি করে আসছে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এবারের বৈশাখী আয়োজনে বাংলার লোকঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ টেপা পুতুল এবং প্রকৃতির রঙ-রূপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন সংগ্রহ। মাটির লাল, পাতা সবুজ, আকাশি নীল ও ফুলের কোমল রঙের ব্যবহারে পোশাকগুলোতে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও নান্দনিকতা।
বিপ্লব সাহা বলেন, টেপা পুতুল শুধুমাত্র একটি খেলনা নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষায় তুলে ধরাই আমাদের এবারের প্রচেষ্টা।
তিনি আরও জানান, এবারের সংগ্রহে কাপড়ের বুনন, মোটিফ ও অলংকরণে টেপা পুতুলের সরলতা এবং বাংলার প্রকৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রিন্ট, মেশিন ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কারচুপি, নকশিকাঁথা ও জারদৌসিসহ বিভিন্ন কৌশলের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
শুধু পোশাক উপস্থাপনই নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা লোকশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এবারের বৈশাখী সংগ্রহে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সি মানুষের জন্য রাখা হয়েছে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন। নারীদের জন্য রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্যের ছোঁয়া, আর পুরুষদের পোশাকে এসেছে সরলতার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল।