মঞ্চে সময়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্প ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’

শ্রমজীবী মানুষের দাবি-দাওয়া, আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক নিপীড়ন—এসবের মধ্য দিয়ে সমাজের বৈষম্য, অন্যায় ও প্রতিরোধের গল্প বলে নাটক ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’।
খ্যাতনামা নাট্যজন উৎপল দত্তের ‘মৃত্যুর অতীত’ অবলম্বনে নির্মিত এই ব্যঙ্গাত্মক নাটকটি আবারও নিয়মিত মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে। বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলের নিয়মিত মঞ্চায়নের অংশ হিসেবে গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে প্রদর্শিত হয় ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’।
নাটকটির নবনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন মিথুন মোস্তফা। কারিগরি নির্দেশনায় রয়েছেন আসিফ মুনীর।
নাটকটির গল্পে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও আন্দোলনের পাশাপাশি উঠে আসে ক্ষমতা, প্রশাসন ও নিপীড়নের বাস্তবতা। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং প্রতিরোধের প্রশ্নকে সামনে রেখে নির্মিত ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’ সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করে। ব্যঙ্গ ও নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরে এমন কিছু প্রশ্ন, যেগুলো সময় বদলালেও অনেক ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক থেকে যায়।
নবীন ও প্রবীণ নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণে মঞ্চে আসছে প্রযোজনাটি। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, নাটকের বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নিয়মিত মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে তাই পুরোনো এই নাট্যভাবনাই নতুন সময়ের দর্শকের কাছে নতুন করে পৌঁছে দিচ্ছে বঙ্গরঙ্গ।
‘মৃত্যুহীন প্রাণ’-এর মূল শক্তি এর বিষয়বস্তুতে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের মতো প্রশ্নকে মঞ্চে হাজির করে নাটকটি দর্শককে শুধু বিনোদন দেয় না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার নানা অসংগতির দিকে তাকানোর সুযোগও তৈরি করে।
নিয়মিত মঞ্চায়নের পাশাপাশি নাট্যকার উৎপল দত্তের আরও একটি নাটক নিয়ে নতুন প্রযোজনা মঞ্চে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল। ফলে ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’-এর পর দলটির পরবর্তী প্রযোজনার দিকেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে নাট্যাঙ্গনে।

