মানিক পশারীর দাফন নিয়ে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ সোহেল রানা

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ছিলেন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। তার মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তার দাফন আটকে ছিল। পরে গভীর রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মারা যান মানিক পশারী। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর প্রায় ১৭ ঘণ্টা নানা বাধা-বিপত্তির কারণে তার দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় লোকজনের অভাবে পরিবারের নারী সদস্যদেরই দাফনের কাজে অংশ নিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহেল রানা। সেখানে তিনি মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ফেসবুক পোস্টে সোহেল রানা লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কবর দিতে বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। আর হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে।’
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না, যারা বাধা দিয়েছিল তাদেরকে সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল। সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এমন আচরণের অভিযোগ তাকে ব্যথিত করেছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তার ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণেই হয়তো এমন ঘটনার বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে সোহেল রানা লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমন সংবাদ আমার মতো অন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরও রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’
মানিক পশারীর দাফন নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনাটিতে কারা বাধা দিয়েছিলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য কী এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল- এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।