রেডিওতে প্রত্যাখ্যান, সেটে মৃত্যুর মুখে, তারপর বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন

বলিউডে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তার কণ্ঠস্বর নিয়ে আপত্তি উঠেছিল, চেহারা নিয়েও ছিল সংশয়। অভিনয়জীবনের প্রথম কয়েক বছরে একের পর এক সিনেমা ব্যর্থ হয়েছে। একসময় শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাকে। পরে জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজনীতিতে, নাম এসেছে নানা বিতর্কেও। তবু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অমিতাভ। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নিয়ে হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা।
রোববার (১১ অক্টোবর) অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন। ১৯৪২ সালের এই দিনে ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কবি হরিবংশ রাই বচ্চন ও তেজি বচ্চনের সন্তান অমিতাভের জন্মনাম ছিল অমিতাভ শ্রীবাস্তব। পরে বাবার পরামর্শে মায়ের পদবি ‘বচ্চন’ নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেন। সেই নামেই পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পান ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
রেডিওতে প্রত্যাখ্যান, সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েই শুরু
অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগেই কণ্ঠের রেডিওতে প্রত্যাখ্যাত হন। কর্মজীবনের প্রথম দিকে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করার জন্য অডিশন দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে সুযোগ পাননি।
পরে কলকাতায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন অমিতাভ। তবে চলচ্চিত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসেননি। ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘ভুবন সোম’ সিনেমায় ভাষ্যকার হিসেবে কাজের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। একই বছর ‘সাত হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবেও অভিষেক ঘটে তার।
একসময় যে কণ্ঠস্বরের কারণে রেডিওতে কাজ পাওয়া হয়নি, সেই কণ্ঠই পরে হয়ে ওঠে তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গম্ভীর ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের কারণে অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার ভাষ্যকার হিসেবেও আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন অমিতাভ।
একের পর এক ব্যর্থতা, তারপর ‘জঞ্জির’
বর্তমানে যে অভিনেতার নাম শুনলেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাস চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তার ক্যারিয়ারের শুরুর বছরগুলো ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। লম্বা গড়ন, ভারী কণ্ঠস্বর এবং প্রচলিত নায়কের চেহারার সঙ্গে পুরোপুরি না মেলার কারণে শুরুতে তাকে নিয়ে সংশয় ছিল।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে তার অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে টানা ১২টি সিনেমা ব্যর্থ হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের পক্ষেই হয়তো হাল ছেড়ে দেওয়া স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু অমিতাভ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় প্রকাশ মেহরা পরিচালিত ‘জঞ্জির’। সিনেমাটিতে পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় খান্নার চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের বদলে ক্ষুব্ধ, প্রতিবাদী ও কঠোর এক চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করে।
এরপর ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’, ‘ডন’, ‘ত্রিশূল’, ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’ ও ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন অমিতাভ। পর্দায় তার প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বের কারণে পরিচিতি পান ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ হিসেবে। ভারতীয় সমাজের মধ্যবিত্ত মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে ওঠে তার অনেক চরিত্র।
‘কুলি’র সেটে যে দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল সবকিছু
অমিতাভ বচ্চনের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ১৯৮২ সালের শুটিং দুর্ঘটনা। মনমোহন দেশাই পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার শুটিং চলছিল বেঙ্গালুরুতে। সহঅভিনেতা পুনীত ইসারের সঙ্গে একটি মারপিটের দৃশ্য ধারণের সময় গুরুতর আহত হন অমিতাভ।
দৃশ্য অনুযায়ী, তাকে লাফ দিয়ে একটি টেবিলের ওপর পড়তে হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সামান্য হেরফেরে টেবিলের কোণে আঘাত লাগে তার পেটে। এতে অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে ঘটনাটি শুটিংয়ের দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিস্থিতির ভয়াবহতা।
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চলে চিকিৎসা। একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে। চিকিৎসকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালান তার জীবন বাঁচাতে। এদিকে প্রিয় অভিনেতার শারীরিক অবস্থার খবর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভারতের অসংখ্য ভক্ত।
দুর্ঘটনার প্রভাব পড়ে ‘কুলি’ সিনেমার গল্পেও। ছবির চিত্রনাট্য অনুযায়ী, শেষ দিকে অমিতাভের চরিত্র ইকবালের মৃত্যুর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাকে হারানোর আশঙ্কার মধ্য দিয়ে যাওয়া দর্শকেরা পর্দায়ও তার মৃত্যু সহজে মেনে নিতে পারবেন না- এমন বিবেচনায় গল্পের সমাপ্তি পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সিনেমায় বেঁচে যান ইকবাল।
১৯৮৩ সালে মুক্তির পর ‘কুলি’ ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। তবে সিনেমাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুর্ঘটনা অমিতাভের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনেও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ওই দুর্ঘটনার পর রক্তসঞ্চালনের সময় সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে তার শরীরে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস প্রবেশ করেছিল।
রাজনীতিতে প্রবেশ, তারপর বিতর্ক
চলচ্চিত্রের পর্দায় সাফল্যের পাশাপাশি জীবনের আরেকটি অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিলেন অমিতাভ। দীর্ঘদিনের বন্ধু রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই ১৯৮৪ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এলাহাবাদ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ীও হন।
তবে সংসদীয় রাজনীতিতে তার পথ দীর্ঘ হয়নি। ১৯৮৭ সালে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেন অমিতাভ। এর পরবর্তী সময়ে বফর্স কামান কেনাকাটা নিয়ে দুর্নীতির বিতর্কে তার ও পরিবারের নাম জড়িয়ে পড়ে। রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কারণে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
রাজনৈতিক জীবনের এই অধ্যায় তার জনপরিচিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।
আর্থিক সংকট থেকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো
অমিতাভের জীবনের উত্থান-পতন শুধু অভিনয় বা রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী সময়ে আর্থিক সংকটও তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রজগতে কাজের অনিশ্চয়তা ও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। একটা সময় বড় পর্দায় নিয়মিত কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
ঠিক সেই সময়েই আসে টেলিভিশনে কাজের সুযোগ। ২০০০ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে নতুন ভূমিকায় হাজির হন অমিতাভ। তখন বড় পর্দার প্রতিষ্ঠিত তারকাদের টেলিভিশনে কাজ করা নিয়ে একধরনের দ্বিধা ছিল। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ছোট পর্দায় নিয়মিত উপস্থিতি তার চলচ্চিত্র তারকার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিন্তু অমিতাভের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রতিযোগীদের সঙ্গে সহজ কথোপকথন, সংযত রসবোধ এবং আন্তরিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে নতুনভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। যাকে এত দিন বড় পর্দায় দেখা যেত, তিনি হয়ে ওঠেন ঘরের পরিচিত মুখ।
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ তাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও জনপ্রিয় করে তোলে। চলচ্চিত্রের বাইরেও যে নিজের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব, অমিতাভের এই অধ্যায় তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
শুধু অ্যাকশন নায়ক নন, অভিনয়ে বৈচিত্র্যও
অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য হলো নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করা। একসময় অ্যাকশনধর্মী ও প্রতিবাদী চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের ধরনেও পরিবর্তন এনেছেন তিনি।
‘বাগবান’, ‘ব্ল্যাক’, ‘সরকার’, ‘চিনি কম’, ‘পা’ ও ‘পিকু’র মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দেখিয়েছেন, তাঁর শক্তি শুধু অ্যাকশন দৃশ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চরিত্রের বয়স, মানসিক জটিলতা ও গল্পের ধরন অনুযায়ী অভিনয়কে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে দীর্ঘ সময় প্রাসঙ্গিক রেখেছে।
শুধু অভিনয় নয়, গানেও নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন অমিতাভ। ‘লাওয়ারিস’ সিনেমার ‘মেরে অঙ্গনে মে’ কিংবা ‘সিলসিলা’র ‘নীলা আসমান সো গয়া’র মতো গান তার কণ্ঠের আরেকটি পরিচয় তৈরি করেছে। অতিথি চরিত্রে কিংবা নিজের নামেই বিভিন্ন সিনেমায় উপস্থিত হয়েও দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন তিনি।
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে চারবার পুরস্কার জিতেছেন অমিতাভ। পেয়েছেন একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এ ছাড়া পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন এই অভিনেতা।
সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা হওয়ার ইচ্ছা পূরণ হয়নি
অমিতাভের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন কিছু অধ্যায়ও রয়েছে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে অন্যতম সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাবনা।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সত্যজিৎ রায় দূরদর্শনের জন্য ফেলুদার উপন্যাস ‘যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে’ অবলম্বনে একটি হিন্দি টেলিভিশন সিরিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রকল্পটির নাম ঠিক করা হয়েছিল ‘কিসসা কাঠমান্ডু কা’। ফেলুদা চরিত্রে অমিতাভকে নেওয়ার আগ্রহ ছিল সত্যজিতের। অমিতাভেরও এ বিষয়ে আগ্রহ ছিল বলে জানা যায়।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং অমিতাভের ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অমিতাভের সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল। কিন্তু সময় ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ফেলুদার চরিত্রে অভিনয় করেন শশী কাপুর।
যদিও ফেলুদা হিসেবে অমিতাভকে দেখা যায়নি, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’ সিনেমায় ভাষ্যকার হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। ফলে পরিচালকের সঙ্গে তার সম্পর্ক পর্দায় অভিনয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসা
অমিতাভ বচ্চনের জীবনকে শুধু একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে অনেক কিছুই বাদ পড়ে যায়। তার যাত্রায় রয়েছে প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতা, শারীরিক সংকট, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা। কিন্তু এসবের কোনোটিই তাঁকে দীর্ঘ সময়ের জন্য থামিয়ে রাখতে পারেনি।
১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় বিনোদনজগতে সক্রিয়। একদিকে ‘শোলে’, ‘ডন’ ও ‘দিওয়ার’-এর মতো সিনেমা তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে, অন্যদিকে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র মতো অনুষ্ঠান তাঁকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ধরন বদলেছে, বদলেছে দর্শকের রুচি ও চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু অমিতাভ বচ্চনের উপস্থিতি থেকে গেছে। তার জীবন তাই কেবল খ্যাতির গল্প নয়; বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক দীর্ঘ উদাহরণ।
আজও তার নতুন কাজ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে। আর এই আগ্রহের পেছনে রয়েছে শুধু কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমা নয়, বরং দীর্ঘ কর্মজীবনে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সেই গল্প, যা অমিতাভ বচ্চনকে অন্য অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।