Advertisement

১৭ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
১৭ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র

মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দাপট ধরে রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া অভিনীত সিনেমাটি মাত্র ১৭ দিনেই বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ২.০২২ বিলিয়ন ডলার।

Advertisement

এই আয় দিয়ে ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-কে পেছনে ফেলেছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। এর ফলে সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ছবিটি। শুধু তা-ই নয়, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর সবচেয়ে দ্রুত সময়ে বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সিনেমা হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে এটি। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি সিনেমা এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

উত্তর আমেরিকার বাজারেও সিনেমাটির দাপট অব্যাহত রয়েছে। ‘হলিউড রিপোর্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় সপ্তাহে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তৃতীয় সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে ৭ কোটি ডলার বা ৭০ মিলিয়ন ডলার। বক্স অফিস ইতিহাসে মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহান্তে কোনো সিনেমার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়।

মুক্তির প্রথম ১৭ দিনেই উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এর মাধ্যমে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’-এর ৭৮ কোটি ৫২ লাখ ডলারের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ফলে উত্তর আমেরিকার সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে টম হল্যান্ড অভিনীত ছবিটি।

বিশ্বব্যাপী এত দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছানোর পেছনেও রয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক কারণ। প্রথমত, স্পাইডার-ম্যান চরিত্রটির কয়েক দশকের জনপ্রিয়তা সিনেমাটিকে মুক্তির আগেই বিশাল দর্শকভিত্তি এনে দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টম হল্যান্ডের প্রতি দর্শকের আস্থা। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে পিটার পার্কার চরিত্রে তার আগের সিনেমাগুলোর সাফল্য নতুন কিস্তি নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে।

‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর আবেগঘন সমাপ্তির পর পিটার পার্কারের গল্প কোন দিকে এগিয়েছে, সেটিও দর্শকদের সিনেমা হলে ফেরার অন্যতম কারণ হয়েছে। বিশেষ করে আগের সিনেমার পরবর্তী অধ্যায় জানার কৌতূহল ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র উদ্বোধনী আয়কে শক্তিশালী করেছে। এবার জটিল মাল্টিভার্সনির্ভর গল্পের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় পিটার পার্কারের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক ও সংগ্রামকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়াও দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছে।

টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার জনপ্রিয়তাও সিনেমাটির বক্স অফিস পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পিটার পার্কার ও এমজের চরিত্রে তাদের অনস্ক্রিন রসায়ন আগের সিনেমাগুলো থেকেই দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। নতুন সিনেমায় তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও দর্শকের কৌতূহলের জায়গা তৈরি করেছে। পাশাপাশি স্যাডি সিঙ্কের চরিত্র ও তার ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য সিনেমাটির প্রচারণায় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। মুক্তির পর ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়ায় প্রথম সপ্তাহের দর্শকই পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে অন্যদের সিনেমাটি দেখতে উৎসাহিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে তৃতীয় সপ্তাহেও উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ছবিটি।

সব মিলিয়ে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় এখন শুধু একটি সফল সুপারহিরো সিনেমার বক্স অফিস ফল নয়; এটি স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির বাণিজ্যিক শক্তিরও নতুন প্রমাণ। মাত্র ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি দ্রুততম সময়ে এই মাইলফলক অর্জনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সনি পিকচার্সের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার রেকর্ডও দখলে নিয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহেও আয় অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত ছবিটির বৈশ্বিক ব্যবসা কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন বক্স অফিসের নতুন কৌতূহল।

১৭ দিনেই ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র