বলিউড তারকাদের বন্ধুত্ব, দ্বন্দ্ব ও শত্রুতা

সাম্প্রতিক সময়ে বলিউড তারকা রণবীর সিং ও ফারহান আখতারের দ্বন্দ্ব যেন সিনেমার কাহিনিকেও হার মানায়। ‘ডন ৩’ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ব্যক্তিগত পর্যায় শেষে নিষেধাজ্ঞা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এটিই কিন্তু প্রথম নয়! বলিউডের রুপালি জগতের তারকাদের দ্বন্দ্ব বেশ কয়েকবার বিনোদন দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে। পর্দার বাইরে অনেক তারকা আছেন যাদের গভীর বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় রূপ নেয় তিক্ততায়। বলিউডের এমন কিছু বিখ্যাত তারকার সুদৃঢ় সম্পর্কে একসময় বড়সড় ফাটল ধরেছিল। তেমন হাইপ্রোফাইল কিছু বন্ধুত্বের ভাঙন এবং জোড়া লাগার গল্প নিয়েই এবারের আয়োজন।
করণ জোহর ও কার্তিক আরিয়ান

২০২১ সালে ‘দোস্তানা ২’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন অপেশাদার আচরণ এবং কাজের স্ক্রিপ্ট নিয়ে মতবিরোধের জেরে করণের ধর্মা প্রোডাকশন থেকে বাদ পড়েন কার্তিক। এক সময়ের বন্ধুত্বে তৈরি হয় তীব্র দূরত্ব। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো তিক্ততা ভুলে আবারও একসঙ্গে বেশ কিছু প্রজেক্টে কাজ করছেন।
শাহরুখ খান ও সালমান খান

বলিউডের সবচেয়ে বড় ক্ল্যাশের একটি দুই হেভিওয়েট খান সালমান ও শাহরুখের। ২০০৮ সালে ক্যাটরিনার জন্মদিনের পার্টিতে কথা কাটাকাটি থেকে দুই খানের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। টেলিভিশনের শোর রেটিং থেকে শুরু করে ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ২০১৩ সালে বাবা সিদ্দিকীর ইফতার পার্টিতে জড়িয়ে ধরে তারা এই বিবাদের অবসান ঘটান।
হৃতিক রোশন ও কঙ্গনা রানাউত

বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম কদর্য রূপ নিয়েছিল এ দুই তারকার বিরোধ। ২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা হৃতিককে তার ‘সিলি এক্স’ (বোকা প্রাক্তন) বলে উল্লেখ করেন এবং প্রেমের দাবি তোলেন, যা হৃতিক সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। জল গড়ায় আইনি নোটিশ এবং কাদা ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত।
শাহরুখ খান ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

‘ডন’ এবং ‘ডন ২’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার পর বলিউডের এই দুই সুপারস্টারের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিবাহবহির্ভূত এ সম্পর্কের তুমুল গুঞ্জন ও বিতর্কই একসময়ের এই দারুণ অন-স্ক্রিন ও অফ-স্ক্রিন জুটির পেশাদার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে চিরতরে ইতি টেনে দেয়।
আমির খান ও জুহি চাওলা

১৯৯৭ সালে ‘ইশক’ সিনেমার সেটে আমিরের একটি মাত্রাতিরিক্ত প্রাঙ্ক বা কৌতুকের কারণে রেগে গিয়ে সেট ছেড়ে চলে যান জুহি। এতে আমিরের অহংবোধে আঘাত লাগে এবং তারা দীর্ঘ ৭ বছর কথা বলা বন্ধ রাখেন। প্রথম স্ত্রী রীনা দত্তের সঙ্গে আমিরের ডিভোর্সের পর দুই তারকার মধ্যে আবার ভাব হয়।
শাহরুখ খান ও ফারাহ খান

২০১২ সালে সঞ্জয় দত্তের দেওয়া এক পার্টিতে ফারাহ খানের স্বামী শিরিশ কুন্দরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন শাহরুখ। শাহরুখের ‘রা-ওয়ান’ সিনেমা নিয়ে শিরিশের করা কিছু অপমানজনক টুইটের জেরেই এই মারামারি হয়, যা ফারাহ ও শাহরুখের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে সাময়িক ফাটল ধরায়।
অমিতাভ বচ্চন ও শত্রুঘ্ন সিনহা

সত্তর ও আশির দশকের এই দুই মহাতারকার দ্বন্দ্বের মূলে ছিল তীব্র পেশাদার প্রতিযোগিতা ও অহংবোধ। শত্রুঘ্ন সিনহার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া তুমুল তালি নাকি বিগ বি-র অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে।
ঐশ্বরিয়া রাই ও রানী মুখার্জি

এক দশকেরও বেশি সময় আগে সালমান খানের কিছু ঝামেলার কারণে ‘চলতে চলতে’ সিনেমা থেকে ঐশ্বরিয়াকে বাদ দিয়ে রানী মুখার্জিকে নেন শাহরুখ খান। নিজের কাছের বন্ধুর এভাবে সিনেমাটি লুফে নেওয়া এবং পাশে না দাঁড়ানো সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি ঐশ্বরিয়া।
করণ জোহর ও কাজল

২০১৬ সালে করণের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং কাজলের স্বামী অজয় দেবগনের ‘শিখায়’ সিনেমার বক্স অফিস লড়াইকে কেন্দ্র করে এই দুই পরম বন্ধুর সম্পর্কে ফাটল ধরে। অজয় অভিযোগ করেন, করণ তাদের সিনেমার বদনাম করতে এক সমালোচককে টাকা দিয়েছেন, আর কাজল স্বামীর পক্ষ নিলে করণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়।
ডেভিড ধাওয়ান ও গোবিন্দ

নব্বইয়ের দশকে ‘কুলি নম্বর ১’ বা ‘হিরো নম্বর ১’-এর মতো ব্লকবাস্টার উপহার দেওয়া এই পরিচালক-অভিনেতা জুটির সম্পর্কে ফাটল ধরে পেশাদার কারণে। ডেভিড ধাওয়ান একসময় গোবিন্দকে শুধু ছোট ও পার্শ্ব চরিত্রের যোগ্য বলে সিনেমায় কাস্ট করা বন্ধ করে দেন। এর ফলে তাদের সম্পর্কে বড় আঘাত হানে।
.png)
