বলিউডের ভাগ্য বদলে দেওয়া ৮ সিনেমা

গত দুই বছরে বলিউডে এক বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেখানে একসময় পারিবারিক নাটকভিত্তিক সিনেমা বক্স অফিসে আধিপত্য বিস্তার করত, সেখানে এখন ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোই তৈরি করছে সাফল্যের নতুন ইতিহাস। সহিংসতা, অন্ধকার দিক এবং সাহসী গল্প বলার ধারা—সব মিলিয়ে এই সিনেমাগুলো দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এবং বক্স অফিসে সুনামি তুলছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে এমন কয়েকটি সিনেমা, যেগুলো শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পায়নি; বরং বলিউডের ভাগ্যও বদলে দিয়েছে। খবর: নিউজ১৮
তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’, যা বিশ্বব্যাপী ১৭০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে নজির গড়েছে। ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত কোনো ভারতীয় সিনেমার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। ডার্ক অ্যাকশন ও সাসপেন্সে ভরপুর এ ছবিটি প্রমাণ করেছে, শক্তিশালী গল্প এবং বিশ্বমানের নির্মাণ দর্শকদের হলে টানতে পারে।
এর পরই রয়েছে ‘ধুরন্ধর’, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম সিনেমা। সহিংস দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আবেগঘন কাহিনি ও শক্তিশালী চিত্রনাট্যের কারণে এটি ১৩০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে। একই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি সিনেমার শীর্ষে থাকা বিরল ঘটনা হিসেবেও এটি আলোচিত।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘অ্যানিমেল’, পরিচালনায় সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা এবং অভিনয়ে রণবীর কাপুর। বিতর্ক সত্ত্বেও ছবিটি প্রায় ৯১৫ কোটি রুপি আয় করে এবং ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর জন্য নতুন ব্যবসায়িক দিগন্ত খুলে দেয়।
চতুর্থ স্থানে থাকা ‘সালার: পার্ট ১’, প্রভাস অভিনীত এ সিনেমাটি দক্ষিণ ও বলিউডে—দুই বাজারেই সমানভাবে সফল হয়। প্রশান্ত নীলের পরিচালনায় নির্মিত এই অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রটি ৭০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে।
এরপর রয়েছে ‘কুলি’, যেখানে রজনীকান্তকে দেখা গেছে ভিন্ন এক ধূসর চরিত্রে। লোকেশ কানাগারাজ পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০২৫ সালের অন্যতম বড় হিটে পরিণত হয়, বিশেষ করে এর অ্যাকশন ও সংলাপের জন্য।
ষষ্ঠ স্থানে থাকা ‘কবির সিং’, শহীদ কাপুর অভিনীত এ চলচ্চিত্রটি ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমা নিয়ে পরিবেশকদের ভয় অনেকটাই দূর করে। বিতর্কিত চরিত্রের গল্প হলেও এটি ৩৭০ কোটি রুপির বেশি আয় করে।
সপ্তম স্থানে রয়েছে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’, যা প্রমাণ করে সুপারস্টার ছাড়াও একটি সিনেমা বিশাল সাফল্য পেতে পারে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর নির্মিত এই সিনেমাটি প্রায় ৩৪০ কোটি রুপি আয় করে আলোচনায় আসে।
তালিকার শেষ দিকে রয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’, যা সংবেদনশীল বিষয়বস্তু নিয়েও বক্স অফিসে সফল হয়। ‘এ’ সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও ছবিটি ৩০০ কোটির বেশি আয় করে এবং তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিনেমাগুলো বলিউডে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—দর্শক এখন নতুন ধরনের গল্প দেখতে প্রস্তুত। ‘এ’ সার্টিফিকেট আর বাধা নয়, বরং সঠিকভাবে নির্মাণ করা হলে সেটিই হতে পারে বড় সাফল্যের চাবিকাঠি।
.png)

