logo

‘মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা সব কষ্টের মধ্যেও বেশি তৃপ্তিদায়ক’

‘মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা সব কষ্টের মধ্যেও বেশি তৃপ্তিদায়ক’

পরকীয়ার জেরে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নিজেদের মতপ্রকাশ করছেন দেশের বিভিন্ন তারকা ও কলাকুশলীরা।  সেই কাতারে আছেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। 

ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাস নাবিলা লিখেছেন, দুঃখিত, আমি আত্মহত্যাকে খুবই স্বার্থপর একটি কাজ বলে মনে করি। নিজের কষ্ট যদি বাবা-মা ও সন্তানের কষ্টের চেয়ে বড় হয়ে যায় এবং সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি নেওয়াই মুখ্য হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে স্বার্থপরতা।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ববোধের বিষয়টিও সামনে এনেছেন এই অভিনয়শিল্পী।

তিনি লিখেছেন, নায়কোচিত আচরণ শুধু পর্দায় দেখালেই যথেষ্ট নয়, বাস্তব জীবনে পরিস্থিতি ও নিজের কাজের দায়ও নিতে হয়।

আলভী ও ইকরা দম্পতির সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাবিলা। তার মতে, মা ছাড়া একটি শিশুর বেড়ে ওঠা কঠিন। 

তিনি লিখেছেন, বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ যাতে সুস্থ আর নিরাপদ হয় এই দোয়া করি, আল্লাহ তার বাবা মাকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিক।

একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেক মানুষের জীবন প্রেম বা সম্পর্কের চেয়েও বড়। জীবন কখনও রূপকথা নয়—এটি কঠিন, তিক্ত ও নির্মম। 

নাবিলা আরও লিখেছেন, জীবনের একটি বিশেষ সৌন্দর্য আছে। আর যদি আপনার সন্তান থাকে, তাহলে জীবনের চেয়ে বড় আর কোনো আনন্দ কি চাইবেন? আপনার সন্তানের জন্য বেঁচে থাকুন, তার জন্য লড়ুন এবং তাকে একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে বড় হতে দেখুন। জীবন যতই তিক্ত ও নির্মম হোক, হাল ছেড়ে দেওয়া কাজের কথা না। মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা, সব কষ্টের মধ্যেও অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।

২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।