Advertisement

বিচ্ছেদ মামলায় বিজয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী সংগীতা

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
বিচ্ছেদ মামলায় বিজয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী সংগীতা

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপাতি বিজয়। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানতে কয়েক মাস আগে আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন তার স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দক্ষিণী সিনেমা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা।

Advertisement

তবে সম্প্রতি চেন্নাইয়ের কাছাকাছি চেঙ্গলপট্টুর পারিবারিক আদালত থেকে সেই বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংগীতা। পরে চেঙ্গলপট্টু জেলা আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। বিচ্ছেদের আবেদন করার পর বিজয়ের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তবে আদালতে দেওয়া পিটিশনে এ ছাড়াও আরও বেশকিছু অভিযোগ করেছিলেন সংগীতা, যেগুলো এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে চেঙ্গলপট্টু জেলা আদালতে দেওয়া আবেদনে বিজয়ের বিরুদ্ধে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ করেন সংগীতা। পিটিশনে সংগীতা দাবি করেন, ২০২১ সালে প্রথমবার বিজয়ের ওই সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন তিনি। সে সময় বিজয় সম্পর্কটি শেষ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ করেন সংগীতা।

তার অভিযোগ, ধীরে ধীরে বিজয় তাকে নিজের সামাজিক ও পেশাগত জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেন। অন্যদিকে, ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চালিয়ে যান বিজয়। এসব অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হতো। সংগীতার দাবি, ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশের বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে আপত্তি জানাননি বিজয়। এর ফলে তিনি এবং তাদের দুই সন্তান- জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা সাশা- বিভিন্ন সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

পিটিশনে আরও অভিযোগ করা হয়, একসময় সংগীতাকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেন বিজয়। তার ওপর আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন সংগীতা। এ ছাড়া ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কও তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বলে আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

সংগীতার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সেটি কার্যত শুধু কাগজে-কলমেই টিকে ছিল। এই সম্পর্ক তাকে মানসিক যন্ত্রণা, অপমান, বিব্রতবোধ এবং গভীর আবেগগত কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দেয়নি বলেও পিটিশনে উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৯৬ সালে চেন্নাইয়ে একটি সিনেমার শুটিংয়ের সময় সংগীতার সঙ্গে বিজয়ের পরিচয় হয়। বিজয়ের ভক্ত সংগীতা তার শুটিংয়ের খবর পেয়ে তাকে দেখতে সেখানে হাজির হন। এমনকি শুধু বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে এসেছিলেন তিনি। সংগীতার এই ভক্তি মুগ্ধ করে বিজয়কে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট বিয়ে করেন তারা। ২০০৫ সালে বিজয়-সংগীতার সংসারে জন্ম নেয় ছেলে জেসন সঞ্জয়। পরে তাদের কন্যাসন্তান দিব্যা সাশার জন্ম হয়।

তবে দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্যের পর বিচ্ছেদের আবেদন ঘিরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংগীতা।

বিচ্ছেদ মামলায় বিজয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী সংগীতা