logo

‘কেউ যদি ধর্ম পালন করে মানসিক শান্তি পান, তবে তাকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া উচিত’

‘কেউ যদি ধর্ম পালন করে মানসিক শান্তি পান, তবে তাকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া উচিত’
অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া

অভিনেত্রী শাবানা আজমি বরাবরই জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পছন্দ করেন। তার মতে প্রতিটি মানুষের জীবনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকতে হবে। যার ওপর দেশ-পরিবার কারও হস্তক্ষেপ থাকবে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি নেটওয়ার্ক’ (আইআইএমইউএন)-এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকার দেন তিনি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ধর্মবিশ্বাস কি নেহাতই ব্যক্তিগত বিষয়, নাকি তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে পারিবারিক অভ্যাস, সংস্কৃতি ও নিজস্ব পরিচিতি? খবর: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমি নিজের শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে জানান, তার বাবা বিখ্যাত উর্দু কবি ও গীতিকার কাইফি আজমি একেবারেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না, তিনি ছিলেন নাস্তিক। অন্যদিকে মা শওকত আজমি কিছুটা ধর্মাচরণ করলেও তা নিয়ে কোনো কঠোরতা ছিল না। ফলে ছোটবেলা থেকেই কোনো কড়া ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হতে হয়নি তাকে।

কথার মাঝে ‘মাশাল্লাহ’ কিংবা ‘ইনশাল্লাহ’-র মতো শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, এর পেছনে কোনো বিশেষ ধর্মীয় চিন্তা কাজ করে না। বরং এই শব্দগুলো তার ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসেরই একটি অংশ।

শাবানার স্বামী ভারতের খ্যাতিমান গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের অবস্থান এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট। জাভেদ নিজেকে প্রকাশ্যেই নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দেন। কথা বলার সময় শাবানার ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। জাভেদের যুক্তি তুলে ধরে শাবানা বলেন, ‘আমি ইনশাল্লাহ বললে জাভেদ পাল্টা প্রশ্ন করেন, অন্য ধর্মের কেউ যদি বারবার নিজস্ব ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করে তবে আমার কেমন লাগবে? জাভেদ মনে করেন, ধর্মবিশ্বাসীরা যখন নাস্তিকদের ওপর নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেয় বা আঘাত করে, তখন নাস্তিক হিসেবে তারও প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।’

শাবানা আরও বলেন, ‘আমি জাভেদকে বলি, নিজের এই অবস্থান সব সময় উগ্রভাবে প্রকাশ করার কী দরকার? কেউ যদি ধর্ম পালন করে মানসিক শান্তি পান, তবে তাকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। অযথা অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করার তো প্রয়োজন নেই।’

নিজের মুসলিম পরিচয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিয়মিত নামাজ পড়া বা অনুষ্ঠান পালনের সঙ্গে তার বিশেষ যোগাযোগ নেই। তবে মুসলিম পরিবারে জন্মানোর কারণে সাংস্কৃতিক শিকড়ের প্রতি তার গভীর টান রয়েছে। উর্দু ভাষা, ঈদের আনন্দ উৎসব এবং ঐতিহ্যবাহী মুসলিম খাবারের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানান এই অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রয়েছেন শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতার। ১৯৮৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর আগে জাভেদ আখতার ১৯৭২ সালে বিয়ে করেছিলেন চিত্রনাট্যকার হানি ইরানিকে। তাদের দুই সন্তান—চলচ্চিত্র নির্মাতা জোয়া আখতার এবং অভিনেতা-নির্মাতা ফারহান আখতার। ১৯৭৮ সালে হানি ও জাভেদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং ১৯৮৫ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।